ভারতের লোকসভায় বিরোধীদলীয় নেতা ও কংগ্রেসের সংসদ সদস্য রাহুল গান্ধী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে ‘আস্ক মি এনিথিং’ (যা খুশি জিজ্ঞেস করুন) পর্বে তার প্রিয় বিজেপি নেতার নাম বলেছেন।
ইনস্টাগ্রাম স্টোরির মাধ্যমে অনুসারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সুযোগ থাকে এই ফিচারে।
বিজেপির কোন রাজনীতিককে সবচেয়ে বেশি পছন্দ করেন, গতকাল বৃহস্পতিবার এ প্রশ্নের জবাবে রাহুল বলেন, ‘ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিং, অবশ্যই। তার সঙ্গে আমার চমৎকার জমে। তিনি বেশ কুল (দারুণ মানুষ)।’
কংগ্রেস নেতা জানান, সামরিক ইতিহাস সম্পর্কে অমরিন্দর সিংয়ের গভীর জ্ঞানের কারণেও তাকে তার ভালো লাগে।
তিনি বলেন, ‘অমরিন্দর সিং সামরিক ইতিহাসের একজন বিশেষজ্ঞ।’
এরপর ‘হ্যালো, আঙ্কেল অমরিন্দর’ বলে ভিডিওটি শেষ করেন রাহুল।
হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, অমরিন্দর সিং ভারতের সাবেক সেনা কর্মকর্তা, রাজপরিবারের সদস্য, সামরিক ইতিহাসবিদ এবং পাঞ্জাবের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী।
কংগ্রেস ছেড়ে ২০২২ সালে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। সেসময় তিনি অভিযোগ করেছিলেন, কংগ্রেস তাকে অপমান করেছে।
কংগ্রেস নেতা চরণজিৎ সিং চান্নি পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর অমরিন্দর সিং দল ছেড়ে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেন। পরে ২০২২ সালে সেই দল বিজেপির সঙ্গে একীভূত হয়।
গত বছর পিটিআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অমরিন্দর সিং বলেছিলেন, ‘কংগ্রেসে থাকাকালে যেভাবে আমাকে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরানো হয়েছিল, সেই কষ্ট এখনো রয়ে গেছে।
‘কংগ্রেসে ফিরে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী ব্যক্তিগতভাবে কোনো সহায়তা চাইলে অবশ্যই করব, তবে রাজনৈতিকভাবে নয়।’
ইনস্টাগ্রামে ‘আস্ক মি এনিথিং’
তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে জেন-জেডের কাছে পৌঁছানোর নতুন উদ্যোগ হিসেবে বৃহস্পতিবার ইনস্টাগ্রামে ‘আস্ক মি এনিথিং’ পর্ব চালু করেন রাহুল গান্ধী।
এসময় তিনি ঝাড়খন্ডে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন, ভারতের শিক্ষাব্যবস্থা এবং আরও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে করা প্রশ্নের উত্তর দেন।
এক্সে নিজের এই ইনস্টাগ্রাম উদ্যোগের লিংক শেয়ার করে রাহুল লেখেন, ‘শিক্ষার্থীরা, জেন-জেড, আমি আপনাদের কথা শুনতে এখানে এসেছি। ইনস্টাগ্রামে আমাকে যা খুশি জিজ্ঞেস করুন, যত বেশি সম্ভব প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব।’
দিল্লির যন্তর মন্তরে গত জুন ও জুলাই মাসে শিক্ষার্থীদের যে আন্দোলন হয়েছিল, সেখানে সবচেয়ে পছন্দের মিম কোনটি ছিল, এ প্রশ্নও করা হয় রাহুলকে।
জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, মধ্যরাতে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে থেকে যে ভিডিওগুলো বের হয়েছিল, সেগুলো সেরা ছিল। সেগুলোতে আতঙ্কিত এক নতুন প্রধানমন্ত্রীর ছবি দেখা গেছে।’