২০২১ সালে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখলের পর আজ বৃহস্পতিবার প্রথমবারের মতো থাইল্যান্ডে পৌঁছেছেন মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং। সামরিক অভ্যুত্থানের পর কোনো দেশে এটিই তার প্রথম আনুষ্ঠানিক সফর বলে জানিয়েছে বিবিসি।
সে বছর নির্বাচিত সরকারকে উৎখাতের পরিপ্রেক্ষিতে মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। এতে হাজারো মানুষ নিহত হয়। দেশটির অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা মুসলমানদের গণউচ্ছেদে ভূমিকা রাখায় মিন অং হ্লাইংয়ের ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। তিনি পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে অবাঞ্ছিত ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত হন। মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগও আনা হয় তার বিরুদ্ধে।
গত এপ্রিলে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন মিন অং হ্লাইং। সেনাপ্রধানের পদ সেসময় ছেড়ে দেন তিনি।
সে নির্বাচনকে আন্তর্জাতিক মহলের অনেকে ‘অবাধ ও সুষ্ঠু নয়’ বলে অভিহিত করেছেন।
কারণ, নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দলগুলোকে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি সশস্ত্র বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রিত মিয়ানমারের বিস্তীর্ণ এলাকায় কোনো ভোটগ্রহণই হয়নি।
২০২১ সালে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট আসিয়ানের সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে স্বাক্ষরিত পাঁচ দফা ঐকমত্য বাস্তবায়নে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে মিন অং হ্লাইংকে জোটের শীর্ষ বৈঠকে অংশ নেওয়া থেকে বিরত রাখা হয়।
ওই পাঁচ দফা ঐকমত্য অনুযায়ী, মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে সহিংসতা কমিয়ে বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসতে হতো।
আসিয়ানের কয়েকটি সদস্য দেশ, বিশেষ করে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন ও সিঙ্গাপুর মনে করে, মিয়ানমারের মানবিক সংকট লাঘব এবং গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটাতে দেশটির সামরিক সরকারের আরও ছাড় দেওয়া প্রয়োজন। তার আগে পূর্ণমাত্রায় কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করা উচিত নয়।
তবে থাইল্যান্ড ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে। দেশটি মিয়ানমারের সামরিক সরকারের সঙ্গে ‘পরিমিত পুনঃসম্পৃক্ততা’ নীতি অনুসরণ করছে।
থাইল্যান্ডের যুক্তি, দুই দেশের মধ্যে ২ হাজার ৪০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। তাই আন্তঃসীমান্ত অপরাধের মতো বিষয় মোকাবিলায় দুই দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা জরুরি।
এই নীতির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টকে ব্যাংককে স্বাগত জানান থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল।