ভারতের রাজধানী দিল্লিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে মহারাষ্ট্রে দুই ঘণ্টাব্যাপী মৌন আন্দোলন (নীরব প্রতিবাদ) কর্মসূচি পালন করেছেন প্রবীণ সমাজকর্মী আন্না হাজারে। তার সহকারী দত্ত আওয়ারি আজ বৃহস্পতিবার ভারতের সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
আওয়ারি বলেন, ‘আন্না আজ সকাল ১১টায় তার এই প্রতিবাদ শুরু করেন। দুপুর ১টায় তা শেষ করেন।’
ভারতের এবারের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং এর জেরে ২০ জন পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে এক মাসের বেশি সময় ধরে আন্দোলন করছে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে শিক্ষার্থীরা।
গত ২৮ জুন তাদের এই আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে আমরণ অনশন শুরু করেন লাদাখের অধিকারকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। পরে ধীরে ধীরে এ আন্দোলনে যুক্ত হন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
পিটিআই জানিয়েছে, আজ শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে মহারাষ্ট্রের আহিল্যনগর শহরে মহাত্মা গান্ধীর মূর্তির সামনে নীরব অবস্থান নেন আন্না। এরপর তিনি নিজ গ্রাম রালেগাঁও সিদ্ধিতে ফিরে যান।
ককরোচ জনতা পার্টির চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে গত সোমবার সংসদ ভবন অভিমুখে পদযাত্রার ডাক দেওয়া হয়। সেদিন কর্মসূচি শুরুর একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হয় দিল্লি পুলিশ।
ছোড়া হয় একের পর এক কাঁদানে গ্যাসের শেল। চলে ব্যাপক লাঠিচার্জ। এতে অনেক শিক্ষার্থীর মাথা ফেটে যায়; হাড় ভেঙে যায়। এছাড়া আটক করা হয় অর্ধশতাধিক আন্দোলনকারীকে।
এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে গত বুধবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্দেশে চিঠি লেখেন আন্না হাজারে। এতে তিনি বলেন, ‘সহিংসতা এবং পুলিশি অ্যাকশনের খবরগুলো অত্যন্ত বেদনাদায়ক।’
এদিকে দিল্লিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের নৃশংসতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকের মা অনিতা দিপকে।
মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগর শহরে গতকাল বুধবার মারাঠি নিউজ চ্যানেল জি২৪ তাসকে অনিতা বলেন, ‘আশা করি, সরকার আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কথা শুনবে এবং যত দ্রুত সম্ভব তাদের মুক্তি দেবে। শিক্ষার্থীদের নির্মমভাবে মারধর করতে দেখে আমি উদ্বিগ্ন। শিক্ষার্থীদের পশুর মতো পেটাতে দেখাটা যন্ত্রণাদায়ক।’