স্পেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের আলমেরিয়া প্রদেশের লস গালিয়ার্দোস এলাকায় ভয়াবহ দাবানলে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। এতে আরও ছয়জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আন্দালুসিয়া আঞ্চলিক সরকার।
কর্তৃপক্ষ জানায়, নিহতদের কয়েকজনের মরদেহ আগুনে পুড়ে যাওয়া গাড়ির ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বিদ্যুতের একটি লাইন ছিঁড়ে আগুনের সূত্রপাত হয় ও তা দ্রুত পাশের বনাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। তবে আগুন লাগার কারণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি কর্তৃপক্ষ।
আন্দালুসিয়া সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়, আরও ছয়জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ায় লস গালিয়ার্দোসের দাবানলে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১২ জনে দাঁড়িয়েছে।
আন্দালুসিয়ার আঞ্চলিক সরকারের প্রধান হুয়ানমা মোরেনো এ ঘটনাকে মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি বলে উল্লেখ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
বেদার নামের একটি গ্রামে আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রায় ১৫০ জন দমকলকর্মী কাজ করছেন। আহতদের মধ্যে একজন ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং আরেকজন দগ্ধ হয়েছেন। এ ছাড়া চারজনকে ঘটনাস্থলেই সামান্য দগ্ধ ও ধোঁয়ার কারণে শ্বাসকষ্টের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
দাবানলের কারণে কয়েকটি সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জরুরি সেবার তথ্য অনুযায়ী, প্রায় এক হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এর আগে মে মাসে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ জানিয়েছিলেন, এবারের গ্রীষ্মে দাবানল মোকাবিলায় দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা মোতায়েন করা হবে। ইতোমধ্যে বড় ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলায় দায়িত্বপ্রাপ্ত স্পেনের মিলিটারি ইমার্জেন্সি ইউনিট (ইউএমই) লস গালিয়ার্দোসে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজে যোগ দিয়েছে।
চলতি বছরের জুনে স্পেনে ১৯৫০ সালের পর সর্বোচ্চ গড় দৈনিক তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। দেশের কয়েকটি এলাকায় তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছানোর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল।
ইউরোপিয়ান ফরেস্ট ফায়ার ইনফরমেশন সিস্টেমের (ইএফএফআইএস) তথ্য অনুযায়ী, গত বছর স্পেনে প্রায় তিন লাখ ৯৩ হাজার হেক্টর বনভূমি আগুনে পুড়ে যায়, যা ২০০৬ থেকে ২০২৪ সালের গড়ের তুলনায় ছয় গুণেরও বেশি।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা বাড়ছে এবং ইউরোপ সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হয়ে ওঠা মহাদেশ। এর ফলে গ্রীষ্মকালে তাপপ্রবাহ, পানির সংকট এবং ভয়াবহ দাবানলের ঘটনা আরও বেড়ে যাচ্ছে।
বিশ্ব আবহাওয়া অ্যাট্রিবিউশন ও অন্যান্য গবেষণা সংস্থার মতে, ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে দাবানলের প্রকোপ বৃদ্ধির সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা, ভবিষ্যতে ইউরোপে এ ধরনের দাবানল আরও ঘন ঘন এবং ভয়াবহ আকারে দেখা দিতে পারে।