ইরানের জন্য এটি কেবল তাদের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষবিদায় অনুষ্ঠানই নয়; বরং এমন এক অধ্যায়ের অবসান, যা দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশটির প্রায় প্রতিটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে তিলে তিলে গড়ে তুলেছিল।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৮৯ সালে ইরাকের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ কাটিয়ে ওঠার মুহূর্তে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেন খামেনি।
এরপর তার কার্যালয়ই হয়ে ওঠে দেশটির ক্ষমতার মূল কেন্দ্রবিন্দু; যেখান থেকে সশস্ত্র বাহিনী, বিচার বিভাগ, রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এবং কৌশলগত সব গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ নিয়ন্ত্রিত হতো।
খামেনির শাসনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি ছিল ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। খামেনির ছত্রছায়ায় এই প্রতিষ্ঠান ইরানের নিরাপত্তা, রাজনীতি ও অর্থনীতিতে একচ্ছত্র প্রভাবশালী শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
একই সঙ্গে আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পেছনে বিপুল বিনিয়োগ করে ইরান।
এই ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বিশ্বজুড়ে বিতর্কের জন্ম দিলেও ইরানের পরমাণু কর্মসূচির চেয়ে তা বড় হয়ে উঠতে পারেনি।
খামেনি সবসময় জোর দিয়ে বলেছেন, ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে চায় না, তবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার তাদের রয়েছে।
তার এই অনড় অবস্থানের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ ইরানের ওপর একের পর এক কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে খামেনির আঞ্চলিক কৌশল মূলত গড়ে উঠেছিল মিত্র দেশ ও বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর নেটওয়ার্কের ওপর ভিত্তি করে।
এই নীতি মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে দিলেও উপসাগরীয় আরব দেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের উত্তেজনা আরও গভীর করে তোলে।
এ বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার প্রথম দিনেই নিহত হন ইরানের এই নেতা।
ইরানি কর্মকর্তারা তার এই হত্যাকাণ্ডকে ‘দেশের হৃৎপিণ্ডে সরাসরি আঘাত’ করার অপচেষ্টা হিসেবে দেখছেন।
তবে তার কট্টর অনুসারীদের একাংশ মনে করছেন, এই অপূরণীয় ক্ষতি ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে অনেকটাই দুর্বল করে দিতে পারে।