যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কফিনের ওপর ইরানের মাশহাদ শহরের পবিত্র ইমাম রেজা মাজারের একটি লাল পতাকা রাখা হয়েছে; যা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও প্রতীকী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
ফেব্রুয়ারির ২৮ তারিখে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিহত খামেনির দাফন আগামী ৯ জুলাই এই মাজারে সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে আগামীকাল শনিবার থেকে শুরু হবে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার জন্য শোকমিছিল এবং জানাজা।
আল জাজিরা জানিয়েছে, আগামীকাল সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য খামেনির মরদেহ তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রার্থনা চত্বরে রাখা হবে। সোমবার তেহরানের রাজপথে খামেনির মরদেহ নিয়ে বিশাল শোকমিছিল বের হবে। মঙ্গলবার শোকমিছিলটি পবিত্র শহর কোমে নিয়ে যাওয়া হবে এবং সেখান থেকে তা ইরাকের নাজাফ ও কারবালা শহরে পৌঁছাবে।
এরপর বৃহস্পতিবার খামেনির মরদেহ পুনরায় ইরানে ফিরিয়ে এনে তার নিজের শহর মাশহাদে সমাহিত করা হবে।
এই শোকমিছিলে দেশ-বিদেশ থেকে লাখো শোকাহত মানুষ অংশ নেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রায় দেড় থেকে ২ কোটি মানুষ এই আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নিতে পারেন। বিশাল এই জমায়েতকে কেন্দ্র করে ইরানজুড়ে এরই মধ্যে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডল ইস্ট অ্যান্ড ইসলামিক পলিটিক্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাদের হাশেমি আল জাজিরাকে বলেন, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কফিনের ওপর যে লাল পতাকা রাখা হয়েছে, তা মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র হোসেন ইবনে আলীর আত্মত্যাগের প্রতীক। সপ্তম শতাব্দীতে কারবালার প্রান্তরে শহীদ হওয়া ইমাম হোসেন (রা.) শিয়া সম্প্রদায়ের কাছে অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় একজন ব্যক্তিত্ব।
হাশেমি বলেন, ‘কারবালার যুদ্ধে ইমাম হোসেন (রা.)-এর মৃত্যু ও শাহাদাত শিয়া মুসলমানদের নৈতিক চেতনার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত।
‘তাই ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হাতে সর্বোচ্চ নেতার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সেই শাহাদাতের প্রতীকী তুলনা টানার চেষ্টা করছে।’