সম্প্রতি হাতে আসা প্রবেশপত্র দেখে চক্ষু চড়কগাছ ভারতের নাগপুর শহরের ১৮ বছর বয়সী মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার্থী আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তালিবের। কারণ প্রবেশপত্রে তার পরীক্ষার কেন্দ্র পড়েছে আড়াই হাজার কিলোমিটার দূরের সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি শহরে। বিদেশে যেতে যে পাসপোর্টের দরকার, সেটিই তার নেই।
জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা (এনটিএ) সাধারণত প্রবাসী ভারতীয় এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য দেশের বাইরে পরীক্ষা কেন্দ্র বরাদ্দ করে থাকে। গত ১৪ জুন ইস্যু করা ওই প্রবেশপত্রে তালিবের পরীক্ষা কেন্দ্র হিসেবে ‘আবুধাবি ইন্ডিয়ান স্কুল’- এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
শনিবার (২০ জুন) টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, বিষয়টি জানার পরপরই তালিবের পরিবার এনটিএর হেল্পলাইনে যোগাযোগ করে। সেখান থেকে এক কর্মকর্তা ভুলটি সংশোধন করে দেওয়ার আশ্বাস দিলেও পরীক্ষার দুই দিন বাকি থাকতেও সংস্থাটির পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
তালিবের পরিবার জানায়, শেষ পর্যন্ত কেন্দ্র পরিবর্তন করা না হলে পরীক্ষা যাতে দিতে পারে, সেজন্য চরম উদ্বেগের মধ্যেও তারা জরুরি ভিত্তিতে ভ্রমণ নথিপত্র ও উড়োজাহাজের টিকিট কাটার তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছেন।
তবে এত কম সময়ে পাসপোর্ট এবং যাতায়াতের ব্যবস্থা করা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তালিবের মা-বাবা।
তাছাড়া গত মাসে ভারতের সবচেয়ে বড় মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি-কাম-এন্ট্রান্স টেস্টের (এনইইটি) প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় এমনিতেই মানসিক চাপে ছিলেন তালিব, যা তিনি এখনও পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেননি। এর মধ্যে প্রবেশপত্রের এই মারাত্মক ভুল তার মানসিক দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
এ বিষয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও এনটিএ কর্মকর্তাদের কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, শেষ মুহূর্তে এসে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন করা সম্ভব না-ও হতে পারে।
এদিকে আরও বেশ কয়েকজন অভিভাবক অভিযোগ করেছেন, কোনো আবেদন না জানানো সত্ত্বেও প্রবেশপত্রে তাদের সন্তানদের পরীক্ষা কেন্দ্র বদলে দেওয়া হয়েছে।
গত মাসে এনইইটি পরীক্ষা বাতিল হওয়ার পর এনটিএর পক্ষ থেকে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে বার্তা পাঠিয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল, তারা আগের কেন্দ্রই বহাল রাখতে চায় নাকি নতুন কেন্দ্র বেছে নিতে চায়।
অভিভাবকেরা জানান, পরীক্ষা ফি বাবদ নেওয়া আড়াই হাজার রুপি ফেরত দেওয়ার জন্য ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বরও চেয়েছিল এনটিএ। তবে নতুন করে কোনো ফি নেওয়া হয়নি।
অনেক অভিভাবক দাবি করেছেন, তারা আগের কেন্দ্র (বিশেষ করে নাগপুরের বাসিন্দারা) বহাল রাখার অপশনটি বেছে নিয়েছিলেন।
তা সত্ত্বেও নতুন প্রবেশপত্র ডাউনলোড করার পর দেখছেন, তাদের সন্তানদের পরীক্ষা কেন্দ্র পড়েছে অনেক দূরের কোনো এলাকায়, এমনকি অন্য জেলাতেও।