বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি ইলন মাস্ক শুক্রবার (১২ জুন) বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার অর্থাৎ এক লাখ কোটি ডলারের সম্পদের মালিক হন। তার রকেট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সংশ্লিষ্ট কোম্পানি স্পেসএক্সের রেকর্ড গড়া শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির (আইপিও) পর এই মাইলফলক অর্জিত হয়।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, দিনের শেষে কোম্পানিটির বাজারমূল্য ২ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়, যা মাস্কের মোট সম্পদের পরিমাণকে ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছে দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হওয়া এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি প্রযুক্তি ও এআই খাতের প্রতি শেয়ারবাজারের উন্মাদনার এক নতুন যুগের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আর এই খুশিতে কেউ কেউ মেতে উঠেছেন উদযাপনে। আইপিও প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকা অন্যতম ব্যাংক জেপি মরগান চেজের নির্বাহীরা নিউইয়র্কের পার্ক অ্যাভিনিউয়ে অবস্থিত ব্যাংকের সদর দপ্তরের ছাদে এক জমকালো নৈশভোজ ও আকাশছোঁয়া আলোকসজ্জার মাধ্যমে এটি উদযাপনের পরিকল্পনা করেছেন।
তবে বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নেয়ারের এই আবির্ভাবকে সবাই যে খুব ইতিবাচকভাবে দেখছেন, তা নয়।
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘ধনীদের ওপর আমাদের কেন কর আরোপ করা উচিত, এটি তার এক ট্রিলিয়ন নম্বর কারণ।’
সম্পদের বৈষম্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সমালোচনা করে আসা প্রগতিশীল মার্কিন সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ইলন মাস্কের সমপরিমাণ সম্পদের মালিক হতে একটি সাধারণ মার্কিন পরিবারকে ১ কোটি ১০ লাখ বছরেরও বেশি সময় ধরে কাজ করতে হবে।
বিশ্বে এখন কমপক্ষে ৩ হাজার ৩০০ জন বিলিয়নেয়ার (১০০ কোটি ডলারের মালিক) রয়েছেন; যার মধ্যে কেবল যুক্তরাষ্ট্রেই আছেন ৯০০ জনের বেশি।
এমন এক পৃথিবীতে বসে এটা কল্পনা করা কঠিন হতে পারে, খুব বেশিদিন আগের কথা নয় যখন পৃথিবীতে একজনও বিলিয়নেয়ার ছিলেন না।
১৯১৬ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর বদলে গিয়েছিল সেই ইতিহাস।
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটির ইতিহাসের অধ্যাপক ক্রিস্টোফার ম্যাকনাইট নিকোলসের মতে, ওই দিন তেল ব্যবসায়ী জন ডি রকফেলার বিলিয়নেয়ার হয়েছিলেন। তিনি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের এবং নিশ্চিতভাবেই বিশ্বের প্রথম বিলিয়নেয়ার।
১৯১৬ সালের ১ বিলিয়ন ডলারের বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলারের চেয়েও বেশি।
সে বছর দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রথম পাতার প্রতিবেদন অনুযায়ী, রকফেলারের কোম্পানি স্ট্যান্ডার্ড অয়েলের শেয়ারের দাম হু হু করে বেড়ে প্রতি শেয়ার ২ হাজার ডলার ছাড়িয়ে গেলে তিনি এই মাইলফলক স্পর্শ করেন।
অধ্যাপক নিকোলস বলেন, বর্তমান সময়ে মাস্ককে নিয়ে যেমন প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে, ঠিক তেমনি সে যুগেও ধনীদের প্রতি সাধারণ মানুষের এক ধরনের মোহ কাজ করত। একই সঙ্গে ক্ষোভের কারণে রকফেলারের ওই নতুন অর্জনকে ঘিরে মানুষের কৌতূহল আরও বেড়ে গিয়েছিল।
সে সময়ও ধনীদের নিয়ে এক ধরনের র্যাংকিং বা তালিকা তৈরি হতো, যা বর্তমানের বিখ্যাত ফোর্বস তালিকার মতোই।
নিকোলস বলেন, “তখনকার মানুষ ঠিক আজকের যুগের মতোই ভাবত, ‘ওহ বাহ! এখন তো তার সম্পদ তালিকার পরের ব্যক্তির দ্বিগুণ হয়ে যাবে’।”
সে যুগের সাধারণ মানুষের কোনো ধারণাই ছিল না, একজন বিলিয়নেয়ার আসলে কতটা ধনী হতে পারেন; ঠিক যেভাবে আজকের দিনে একজন ট্রিলিয়নেয়ারের সম্পদের হিসাব সাধারণ মানুষের পক্ষে মাথায় আনা কঠিন।
‘আমার মনে হয় তখনকার বিলিয়নেয়ার আর এখনকার ট্রিলিয়নেয়ার একই কথা। এতগুলো শূন্য একসঙ্গে কল্পনাই করা যায় না,’ বলেন এই অধ্যাপক।