রয়টার্সের প্রতিবেদন
হামলা বন্ধের শর্তে ইরানের বিলিয়ন ডলারের তহবিল ছাড়তে সম্মত হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বার্তা সংস্থা রয়টার্সের কাছে এমন দাবি করেছে চারটি সূত্র। যদিও তা অস্বীকার করেছে আবুধাবি।
ধনী উপসাগরীয় দেশটিতে তেহরানের হামলার পর কৌশলগত অবস্থান পরিবর্তনের অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানায় সূত্রগুলো।
আগে প্রকাশ না পাওয়া এ তথ্য এমন সময়ে সামনে এলো, যখন যুদ্ধের অবসান নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা বেশ খানিকটা এগিয়েছে।
কূটনীতিকদের ভাষ্য, আলোচনার অংশ হিসেবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে বিদেশি ব্যাংকগুলোতে আটকে থাকা ইরানের তেল বিক্রির কয়েক বিলিয়ন ডলারের অর্থ ছাড়ের বিষয়ও থাকতে পারে।
রয়টার্সকে দুটি আঞ্চলিক সূত্র জানায়, মোট ১০ বিলিয়ন ডলার ছাড়ে সম্মত হয়েছে আমিরাত, যার মধ্যে ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি এরই মধ্যে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তবে সংশ্লিষ্ট আরও দুটি সূত্র বলছে, মোট অর্থের পরিমাণ ২০ বিলিয়ন ডলার। আমিরাতে ইরানের হামলা বন্ধের বিনিময়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর একটি আরও জানায়, প্রথম কিস্তির ৩ বিলিয়ন ডলার এরই মধ্যে ছাড় করা হয়েছে।
তবে এই অর্থ আমিরাতের নিজস্ব তহবিল নাকি তার ব্যাংকিং ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা ইরানি অর্থ, তা নিশ্চিত হতে পারেনি রয়টার্স। অন্য কোনো উৎস থেকেও অর্থটি আসতে পারে।
ইরানের অর্থ ছাড়ের বিষয়টি অবশ্য সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে আমিরাত।
শনিবার (১৩ জুন) ভোরে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে ৩ বিলিয়ন ডলার স্থানান্তরের দাবিসহ এসব তথ্য অস্বীকার করে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এসব দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আমিরাতের পক্ষ থেকে জব্দ থাকা ইরানি অর্থ ছাড়, স্থানান্তর বা এ ধরনের কোনো প্রক্রিয়ায় সহায়তা করা হয়নি।’
বিবৃতিতে আর কোনো বিস্তারিত তথ্য দেয়নি আমিরাত।
এর আগে রয়টার্স এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে আমিরাতের এক কর্মকর্তা বলেন, দেশটি উত্তেজনা কমানো ও শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, ‘আমিরাতের পররাষ্ট্রনীতি অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা কমানো, সংঘাত প্রশমিত করা এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পরিচালিত হয়।
‘এই অঞ্চলের জনগণকে সংঘাতের প্রভাব থেকে সুরক্ষিত রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের নেওয়া উদ্যোগসহ সব ধরনের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে আমিরাত।’