বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন দীনেশ ত্রিবেদী। নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করতে শুক্রবার (১২ জুন) সকাল ৮টায় বেনাপোল বন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করবেন তিনি। এরপর ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন।
ঢাকায় পৌঁছানোর পর দীনেশ ত্রিবেদী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে তার ক্রেডেনসিয়াল পেশ করবেন। এরপরই আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন তিনি।
এরআগে, গত ৫ জুন দায়িত্ব গ্রহণের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেশটির রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছ থেকে ক্রেডেনসিয়াল গ্রহণ করেন তিনি।
ভারতের জাতীয় রাজনীতির পরিচিত মুখ দীনেশ ত্রিবেদীর জন্ম ১৯৫০ সালে নয়াদিল্লিতে। গুজরাটি বংশোদ্ভূত হলেও তার বেড়ে ওঠা কলকাতায়। বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে রয়েছে তার দীর্ঘদিনের নিবিড় সম্পর্ক। কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে বাণিজ্যে স্নাতক এবং যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কংগ্রেস, জনতা দল ও তৃণমূল কংগ্রেসে সক্রিয় থাকার পর ২০২১ সালে বিজেপিতে যোগ দেন দীনেশ ত্রিবেদী। পশ্চিমবঙ্গ থেকে একাধিকবার রাজ্যসভা ও লোকসভার সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের মন্ত্রিসভায় রেলমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
চলতি বছরের এপ্রিলে বাংলাদেশে ভারতের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে তার নিয়োগের ঘোষণা দেয় নয়াদিল্লি। তিনি প্রণয় কুমার ভার্মারের স্থলাভিষিক্ত হবেন।
সাধারণত এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদে পেশাদার কূটনীতিকদের নিয়োগ দেয়া হয়। তবে এবার একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদকে বেছে নিয়েছে ভারত সরকার।
এদিকে সম্প্রতি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ‘পুশইন’ এবং ‘পদ্ধতিগত পুশব্যাক’ নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। দুই দেশের কূটনৈতিক টেবিলে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনার কথা বলা হলেও, প্র্যাক্টিক্যাল গ্রাউন্ডে বা সীমান্তে কাঁটাতারের দুই পাশে পরিস্থিতি বেশ থমথমে। এ অবস্থার মধ্যে দীনেশ ত্রিবেদী দায়িত্ব গ্রহণ করছেন। ফলে ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কের বর্তমান প্রেক্ষাপটে এ নিয়োগকে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।