দক্ষিণ-পূর্ব ভারত মহাসাগরে প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার (৭৪৫ মাইল) দীর্ঘ এলাকাজুড়ে তিমির দেহাবশেষের সন্ধান পেয়েছেন গবেষকেরা।
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার (চার মাইল) গভীরে ডায়াম্যান্টিনা ফ্র্যাকচার জোন নামের গভীর খাদযুক্ত একটি সামুদ্রিক পর্বতশ্রেণিতে এই স্থানটির খোঁজ মেলে।
তবে বিজ্ঞানীদের সবচেয়ে বেশি বিস্মিত করেছে সেখানে পাওয়া জীবাশ্মের বয়স। কিছু দেহাবশেষের বয়স প্রায় ৫৩ লাখ বছর।
বিজ্ঞান সাময়িকী নেচারের তথ্য অনুযায়ী, চীন, ইতালি ও নিউজিল্যান্ডের একদল গবেষকের পানির নিচে আবিষ্কার করা এই মৃতনগরী এমনসব জীব ও প্রজাতিতে পরিপূর্ণ, যা ‘বিজ্ঞানের কাছে সম্পূর্ণ নতুন হতে পারে’।
এই গবেষণার অন্যতম লেখক ও চাইনিজ একাডেমি অব সায়েন্সেসের বিজ্ঞানী শিয়াওতং পেং বলেন, ‘এত বড় পরিসরের একটি মৃতনগরীর সন্ধান পাওয়া ছিল আমাদের জন্য সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত।’
‘এর বিস্তৃতির আকার, গভীরতা এবং যুগের ব্যাপ্তি আমাদের কল্পনার সীমানাকেও ছাড়িয়ে গেছে,’ যোগ করেন এই বিজ্ঞানী।
বিবিসি জানিয়েছে, পানির নিচে ওই স্থানে চালানো ৩২টি অভিযানে অনুসন্ধানকারীরা ৪৮৫টি তিমির দেহাবশেষ থেকে নমুনা সংগ্রহ করেন। সেখানে তারা একটি বিলুপ্ত তিমির কঙ্কালসহ দেহাবশেষের বিশাল ভাণ্ডার খুঁজে পান।
সেখান থেকে উদ্ধারকৃত জীবাশ্মে পরিণত হওয়া মাথার খুলিগুলোর মধ্যে ৫৩ লাখ বছরের পুরোনো সুচালো ঠোঁটযুক্ত টেরোসিটাস বেঙ্গুয়েলে তিমির সন্ধান পাওয়া যায়।
গোটা অভিযানের সবচেয়ে বড় আবিষ্কার ছিল পাঁচ মিটার দীর্ঘ একটি অ্যান্টার্কটিক মিঙ্কি তিমির মৃতদেহ।
এছাড়া এই অনুসন্ধানস্থলের নামানুসারে টেরোসিটাস ডায়াম্যান্টিনাই নামে তিমির একটি নতুন প্রজাতিও উন্মোচন করেছে গবেষক দলটি।
জেলিফিশ, কৃমি ও ক্রাস্টেসিয়ান (কাঁকড়া-চিংড়ি জাতীয় জলজ প্রাণী) সহ এক বিশাল জীবগোষ্ঠী স্তূপ করা তিমির দেহাবশেষকে কেন্দ্র করে বেঁচে রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালভার্ট মেরিন মিউজিয়ামের স্টিফেন জে গডফ্রে নেচার সাময়িকীতে লিখেছেন, ‘পেং এবং তার সহকর্মীদের এই বিশাল দেহাবশেষের মুখোমুখি হওয়া সত্যিই এক অনন্য আবিষ্কার। যদিও স্থানটিতে পৌঁছানো বেশ কঠিন, তবে সেখানে আরও অনেক রোমাঞ্চকর আবিষ্কার লুকিয়ে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ঘটনা নিঃসন্দেহে এ ধরনের সামুদ্রিক পরিবেশে আরও গভীর অভিযানের অনুপ্রেরণা জোগাবে।’