খিদে মেটাতে ওদের খাবারের প্রয়োজন হয় না। জলেরও প্রয়োজন হয় না তেষ্টা মেটাতে। রুশ সেনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিশেষ ধরনের কমান্ডোকে কাজে লাগানো শুরু করেছে ইউক্রেন। যাদের দূর থেকেই নিয়ন্ত্রণ করা যায়। যুদ্ধক্ষেত্রের লাইভ স্ট্রিমিং করে ওরা। কী ভাবে, কোন কৌশলে শত্রুপক্ষকে কোণঠাসা করা যায়, সব কিছুতেই দক্ষ ওরা।
সীমান্তে এখন রাশিয়ার বিরুদ্ধে ওরাই ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় শক্তি। সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর প্রতিবেদন বলছে, শয়ে শয়ে এই কমান্ডোকে কাজে লাগাচ্ছে ইউক্রেন। রক্ত-মাংসের সেনা নয়, যন্ত্রসেনাতেই রাশিয়ার বিরুদ্ধে বাজিমাত করছে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জ়েলেনস্কির দেশ। প্রায় চার বছর ধরে চলা যুদ্ধে সেনা সঙ্কটে ভুগছে ইউক্রেন। যুদ্ধক্ষেত্রে যাতে রক্ত-মাংসের সেনার মৃত্যু কমানো যায়, তাই বিকল্প হিসাবে এ বার যন্ত্রসেনার ব্যাপক ব্যবহারের পথে হেঁটেছে তারা।
পশ্চিমের দেশগুলি থেকে সামরিক অস্ত্রের জোগান পাচ্ছে ঠিকই। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে সেনা সঙ্কটে ভুগতে থাকা ইউক্রেন পুরোদস্তুর যন্ত্রসেনার ব্যবহারে নেমেছে বলে ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে এরাই এখন মুখ্য ভূমিকা পালন করছে। সামরিক শক্তিতে রাশিয়ার সেনার তুলনায় বহু যোজন পিছনে ইউক্রেন। কিন্তু তার পরেও মস্কোর চোখরাঙানিকে চ্যালেঞ্জ করে চার বছর ধরে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে তারা। তবে একটা সময় পর থেকে ইউক্রেনে সেনা সঙ্কট দেখা দিতে শুরু করে। আর সেই সঙ্কট মেটাতে বিকল্প ব্যবস্থা নিয়েও চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছিল। রক্ত-মাংসের সেনাকে সহযোগিতা করতে তাই যন্ত্রসেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেয় ইউক্রেন।
গত এপ্রিলে জ়েলেনস্কি দাবি করেছিলেন যে, রুশ সেনার হাত থেকে বেশ কয়েকটি সেনাচৌকি দখল করেছে তাদের সেনা। সেই অভিযানে শুধুমাত্র যন্ত্রসেনাকেই কাজে লাগানো হয়েছিল। আর তা দিয়েই বাজিমাত করেছে কিভ। জ়েলেনস্কির আরও দাবি, এ বছরের শুরুতে রাশিয়ার বিরুদ্ধে অভিযানে ২২ হাজার যন্ত্রসেনাকে মোতায়েন করা হয়েছে। রুশ সেনারা ইউক্রেনের এই বিশেষ কমান্ডোবাহিনীকে ‘সাইলেন্ট ডেথ’ নাম দিয়েছেন। কারণ, এত নিঃশব্দে এরা হামলা চালায় যে, শত্রুপক্ষ কিছু বুঝে ওঠার আগেই ধরাশায়ী হয়। ১০ মিটারের মধ্যে এলে তবে ওদের উপস্থিতি টের পাওয়া যায়। ইউক্রেনের এক সেনাকর্তার কথায়, ‘‘এই ধরনের যন্ত্রসেনা আগে হাতে এলে, আমাদের অনেক সেনাকে হারাতে হত না।’’ তিনি বলেন, ‘‘প্রতিনিয়ত যুদ্ধের ধরন বদলাচ্ছে। আগে যে ভাবে যুদ্ধ হত, এখন সেখানে প্রযুক্তির ব্যবহার বেশি হচ্ছে।’’ আর সেই প্রযুক্তি নির্ভর হয়েই রাশিয়ার বিরুদ্ধে চার বছর ধরে লড়াই চালাচ্ছে ইউক্রেন। ইউক্রেনের এক সেনাকর্তা জানিয়েছেন, মাসে ৩৫ হাজার রুশ সেনা হত্যা করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। ব্রিটেনের এক গোয়েন্দা সংস্থা জিসিএইচকিউ-এর এক তথ্য বলছে, চার বছর ধরে চলা যুদ্ধে ৫ লক্ষ রুশ সেনার মৃত্যু হয়েছে।