পশ্চিমবঙ্গের স্কুলগুলোতে প্রতিদিন সকালে ক্লাস শুরুর আগে সমাবেশে শিক্ষার্থীদের ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) স্কুল শিক্ষা দপ্তর থেকে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের কাছে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশ দেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ক্লাস শুরুর আগে সকালের প্রার্থনায় ‘বন্দে মাতরম’ গানটি বাধ্যতামূলক করা উচিত, যাতে রাজ্যের সব স্কুলের সব শিক্ষার্থী এটি গাইতে পারে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিগত সরকারের আমলে ‘বাংলার মাটি বাংলার জল’-কে রাজ্য সংগীতের মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল এবং স্কুলগুলোতে সকালের সমাবেশে গানটি গাওয়া ছিল বাধ্যতামূলক।
টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, নতুন এই নির্দেশনায় স্কুলপ্রধানরা কিছুটা বিভ্রান্তিতে পড়েছেন। অনেক প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, নতুন বিজ্ঞপ্তিতে রাজ্য সংগীত সম্পর্কে কিছু বলা না থাকলেও সকালের প্রার্থনার সময় ‘বন্দে মাতরম’, ‘বাংলার মাটি বাংলার জল’ এবং জাতীয় সংগীত এই তিনটি গান একসঙ্গে গাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য সহজ হবে না।
এক স্কুলপ্রধান বলেন, “আমরা জাতীয় সংগীত বাদ দিতে পারি না, কারণ এটি আবশ্যিক। এখন আমাদের প্রথম গান হবে ‘বন্দে মাতরম’। এর সঙ্গে রাজ্য সংগীত যোগ করলে অনেক বেশি সময় লাগবে, যা ক্লাস শুরু করতে দেরি করিয়ে দেবে। যদিও বিজ্ঞপ্তিতে রাজ্য সংগীত নিয়ে কিছু বলা হয়নি, তবে তিনটি গানের জন্য শিক্ষার্থীদের ধরে রাখা খুব একটা সহজ কাজ নয়।’
ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত জানুয়ারি মাসে জাতীয় সংগীতের ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার জন্য একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল। এখন সেটি পশ্চিমবঙ্গে কার্যকর করা হয়েছে।
যাদবপুর বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক পার্থপ্রতিম বৈদ্য বলেন, “গত সপ্তাহ থেকে আমরা জাতীয় সংগীতের আগে ‘বন্দে মাতরম’ গাইছি।”
যোধপুর পার্ক বয়েজ স্কুলের প্রধান শিক্ষক অমিত সেন মজুমদার বলেন, ‘গ্রীষ্মকালীন ছুটির পর স্কুল খুললে আমরা এই নির্দেশ কার্যকর করব।’
ভবানীপুর মিত্র ইনস্টিটিউশনের প্রধান শিক্ষক রাজা দে বলেন, ‘তিনটি গানই বাধ্যতামূলক কি না, নাকি আমরা রাজ্য সংগীত বাদ দেব, সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পেতে আমরা স্কুল শিক্ষা দপ্তরের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছি। আশা করি, গরমের ছুটি শেষ হওয়ার আগেই এনিয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা পাব।’
বিভ্রান্তির বিষয়ে শিক্ষা দপ্তরের এক কর্মকর্তা টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেন, “আমাদের ‘বন্দে মাতরম’ গানটি স্কুলের প্রার্থনা সংগীত হিসেবে চালু করতে বলা হয়েছে। তবে সেখানে রাজ্য সংগীতের কোনো উল্লেখ নেই।”