ইরান যুদ্ধের খরচ হিসাবের চেয়ে ১৬ শতাংশ বেড়ে প্রায় ২ হাজার ৯০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে পেন্টাগন। এমন সময়ে এই তথ্য দেওয়া হলো যখন যুদ্ধের প্রভাব এবং মার্কিন সামরিক সক্ষমতা নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে রয়েছেন।
ক্যাপিটল হিলে মঙ্গলবার (১২ মে) বাজেট সংক্রান্ত এক শুনানিতে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়। এই অঙ্কটি মাত্র দুই সপ্তাহ আগে দেওয়া প্রতিরক্ষা দপ্তরের হিসাবের চেয়ে প্রায় ৪০০ কোটি ডলার বেশি।
এনডিটিভি জানিয়েছে, এদিন ২০২৭ সালের জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেট নিয়ে শুনানিতে অংশ নেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন এবং পেন্টাগনের অর্থবিষয়ক প্রধান জুলস হার্স্ট। সেখানে যুদ্ধের খরচ নিয়ে তাদের প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়।
এপ্রিলের ২৯ তারিখে হেগসেথের দেওয়া আড়াই হাজার কোটি ডলারের হিসাবের কথা উল্লেখ করে জুলস হার্স্ট বলেন, ‘সেই সাক্ষ্য দেওয়ার সময় খরচ ছিল আড়াই হাজার কোটি ডলার। কিন্তু আমাদের জয়েন্ট স্টাফ ও হিসাব নিয়ন্ত্রণ দল নিয়মিত এই খরচ পর্যালোচনা করছে এবং বর্তমানে আমাদের ধারণা, এটি ২ হাজার ৯০০ কোটি ডলারের কাছাকাছি।’
তিনি সরঞ্জাম মেরামত, প্রতিস্থাপন এবং ব্যাপক মাত্রার যুদ্ধকালীন ব্যয়ের কথা উল্লেখ করেন।
তবে ডেমোক্র্যাট এবং যুদ্ধবিরোধীরা পেন্টাগনের এই হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাদের মতে, ইরানের পাল্টা হামলায় হওয়া ক্ষয়ক্ষতিসহ যুদ্ধের প্রকৃত খরচ আরও অনেক বেশি হতে পারে।
শুনানি চলাকালে ডেমোক্র্যাটরা যুদ্ধের লাগামহীন খরচ এবং এর উদ্দেশ্য নিয়ে অস্পষ্টতার প্রশ্নে ট্রাম্প প্রশাসনকে একহাত নেন।
ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেতা রোসা ডিলরো প্রশ্ন তোলেন, ‘দিনশেষে আমাদের এই উত্তরটি জানতে হবে, আমরা কী অর্জন করেছি এবং তার বিনিময়ে আমাদের কত মূল্য চুকাতে হয়েছে?’
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে ইরানের বিরুদ্ধে চালানো সামরিক অভিযানের পর মঙ্গলবার প্রথম ক্যাপিটল হিলে হাজির হন হেগসেথ।
ডেমোক্র্যাটরা অভিযোগ করেন, ট্রাম্প কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়াই যুদ্ধ চালিয়েছেন। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাট সিনেটর মার্ক কেলি সতর্ক করে বলেন, টমাহক মিসাইল ও প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরের মতো উন্নত অস্ত্রের মজুত মারাত্মকভাবে কমে গেছে, যা পুনরায় পূরণ করতে কয়েক বছর লেগে যেতে পারে।
তবে হেগসেথ এসব উদ্বেগকে ‘বোকামি ও অনর্থক অতিরঞ্জন’ বলে উড়িয়ে দেন।
এদিন প্রতিনিধি পরিষদে হাজির হওয়ার পর হেগসেথ ও কেইন সিনেট প্যানেলের দ্বিতীয় দফা জেরার মুখে পড়েন।
উভয় শুনানির বাইরে যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভকারীরা অবস্থান নিয়েছিলেন।
সিনেটে ডেমোক্র্যাট সদস্য প্যাটি মুরে বলেন, প্রশাসনের দেওয়া যুদ্ধের খরচের হিসাব ‘সন্দেহজনকভাবে কম’ মনে হচ্ছে, কারণ এতে মার্কিন স্থাপনাগুলোর ক্ষয়ক্ষতির হিসাব ধরা হয়নি।
তিনি বিভিন্ন প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানান, ইরান অন্তত ২২৮টি সামরিক স্থাপনা বা সরঞ্জামের ওপর আঘাত হানে।
এসময় প্রজেক্ট অন গভর্নমেন্ট ওভারসাইটের জ্যেষ্ঠ প্রতিরক্ষা নীতি বিশ্লেষক ভার্জিনিয়া বারগার বলেন, প্রশাসন যুদ্ধের প্রকৃত খরচ হয়তো ‘কয়েক বিলিয়ন’ ডলার কম দেখাচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘হিসাবের এই গরমিল ধরা এবং করদাতাদের টাকা এই যুদ্ধে আসলে কতটা খরচ হচ্ছে, তা জানার একমাত্র উপায় হলো, যদি পেন্টাগন কংগ্রেসকে ব্যয়ের একটি বিস্তারিত খতিয়ান দেয়।
‘সংখ্যার বিস্তারিত বিবরণ না দেখে আমরা এটা ভাবতে বাধ্য হচ্ছি, পেন্টাগন হয়তো গাণিতিক মারপ্যাঁচ এবং তথ্য গোপন করে সরকারি খরচের হিসাব যতটা সম্ভব কম দেখানোর চেষ্টা করছে।’