পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর রাজ্যজুড়ে ভয়াবহ সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। রাতভর বিভিন্ন জেলায় তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে কমপক্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অনেকে।
এছাড়া বেশ কিছু দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।
বুধবার (৬ মে) ভারতীয় সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় কলকাতাতেই দুটি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
বেলেঘাটায় তৃণমূলের পোলিং এজেন্ট বিশ্বজিৎ পট্টনায়ককে (৪৫) তার বাড়ির সামনে রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। একটি ফোন কল পেয়ে তিনি বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন।
পুলিশের ধারণা, বিশ্বজিৎকে তাড়া করা হয়েছিল এবং ছাদ দিয়ে পালানোর সময় পড়ে গিয়ে তার মৃত্যু হয়।
তবে পরিবারের অভিযোগ, তৃণমূলের এই পোলিং এজেন্টকে ঘর থেকে টেনে হিঁচড়ে বের করে পিটিয়ে মারা হয়েছে।
নিহতের এক আত্মীয় বলেন, ‘ওরা দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তাকে নির্মমভাবে মারধর করে। ভয়ে প্রতিবেশীরাও এগিয়ে আসেনি।’
এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে কলকাতা পুলিশ।
তদন্তকারী এক কর্মকর্তা জানান, বিশ্বজিৎ একটি পানির কলের ওপর পড়ে গিয়েছিলেন। কলটি ভেঙে যাওয়ায় পানির তোড়ে রক্ত ধুয়ে যায়। তাই ঘটনাস্থলে রক্ত দেখা যায়নি। তবে তার নাক ও কান দিয়ে রক্ত ঝরছিল।
বিজেপি এই ঘটনায় সম্পৃক্ত থাকার কথা অস্বীকার করেছে।
এই ঘটনা ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর একই এলাকায় বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকার হত্যাকাণ্ড স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে।
অভিজিৎ হত্যা মামলা বর্তমানে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআই তদন্ত করছে। সিবিআই তাদের সম্পূরক অভিযোগপত্রে (চার্জশিট) সাবেক তৃণমূল বিধায়ক পরেশ পালসহ ২০ জন সন্দেহভাজনের নাম উল্লেখ করেছিল। এর ফলে ২০২৫ সালে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।
এদিকে বেলেঘাটায় বিশ্বজিৎ হত্যার কয়েক ঘণ্টা পর কলকাতার নিউ টাউনে তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে মধু মণ্ডল (৪৬) নামের এক বিজেপি কর্মীর মৃত্যু হয়।
পুলিশ বলছে, দলীয় কার্যালয়ের দখল নিয়ে সংঘর্ষ চলাকালে মধু মণ্ডলকে ধাক্কা দেওয়া হয় এবং লাথি মারা হয়। তিনি সেখানেই লুটিয়ে পড়েন। হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
এ ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে অভিযুক্ত ব্যক্তি এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। পরে তার বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়। মুহূর্তের মধ্যে সহিংসতা পুরো কলকাতায় ছড়িয়ে পড়ে। বেহালা থেকে কালীঘাট ও শ্যামপুকুরে দলীয় কার্যালয়ে হামলা, দলীয় পতাকা ছিঁড়ে ফেলা এবং যানবাহন ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
এমনকি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী এলাকা ভবানীপুরেও এক কাউন্সিলরের কার্যালয়ে ঢুকে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।