তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে কয়েক দশকের মধ্যে যা দেখা যায়নি, এবার সম্ভবত তেমন কিছুরই প্রস্তুতি চলছে—একটি জোট সরকার। হিসাবনিকাশ এবং পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে এই জোট গঠন করা হচ্ছে, যেখানে ক্ষমতার কাঠামোতে বড় ধরনের চমক থাকার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
এমনকি একটি উপনির্বাচনের মাধ্যমে সাবেক আইএএস কর্মকর্তা ইউ সাগায়ামকে সরকারে আনার পরিকল্পনাও করা হচ্ছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
২৩৪ সদস্যের তামিলনাড়ু বিধানসভায় মেগাস্টার বিজয় থালাপতির দল তামিলাগা ভেট্টরি কাজাগাম (টিভিকে) সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮ আসন না পাওয়ায় দলটির মনোযোগ এখন উদযাপনের চেয়ে সরকার গঠনের দিকেই বেশি।
মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে বিজয় তার দলীয় কার্যালয় পরিদর্শন করেন এবং নবনির্বাচিত বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক করেন। সেখান থেকে জোট সরকারের একটি রূপরেখা ফুটে উঠতে শুরু করেছে।
হিসাবটা খুব একটা জটিল নয়। কংগ্রেস (৫টি আসন), ভিদুথালাই চিরুথাইগাল কাচি (ভিসিকে) (২টি), সিপিআই (২টি) এবং সিপিআই(এম) (২টি)—এই দলগুলো মিলে মোট ১১ জন বিধায়কের একটি ব্লক তৈরি হচ্ছে, যা বিজয়কে অনায়াসেই ম্যাজিক ফিগার পার করিয়ে দেবে।
এখন বামপন্থী ওই দলগুলো এবং ভিসিকের দ্রাবিড় মুনেত্রা কাজাগাম (ডিএমকে) নেতৃত্বাধীন জোট থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়াটা কেবল সময়ের ব্যাপার বলে মনে করা হচ্ছে।
এছাড়া ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ (আইইউএমএল), দেসিয়া মুরপোক্কু দ্রাবিড় কাজাগাম (ডিএমডিকে) বা পাত্তালি মাক্কাল কাচির (পিএমকে) একাংশের সমর্থন এই ব্যবধানকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে, যা প্রয়োজনীয়তাকে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় রূপ দেবে।
সংশ্লিষ্ট দলগুলোর শীর্ষ সূত্র জানিয়েছে, টিভিকে নেতৃত্বের সঙ্গে এরই মধ্যে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়েছে। এই দলগুলোর নেতারাও তাদের অভিপ্রায় প্রকাশ করতে শুরু করেছেন।
ভিসিকে প্রধান থল থিরুমাভালাভান বলেন, জনগণ সম্ভবত একটি জোট সরকারের পক্ষেই রায় দিয়েছে।
তিনি এও ইঙ্গিত দেন, তার দল এবং বামপন্থী মিত্ররা রাজ্যে একটি ‘ধর্মনিরপেক্ষ ফ্রন্ট’-এর মধ্যেই থাকবে।
টিভিকে সূত্রগুলো বলছে, খোদ বিজয় নির্বাচনের প্রচারের সময় থেকে জোট সরকারের ধারণার প্রতি ইতিবাচক ছিলেন; যা তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যে বেশ ব্যতিক্রমী একটি অবস্থান, যেখানে ঐতিহাসিকভাবে ক্ষমতা সবসময় এককেন্দ্রিক থেকেছে।