থাইল্যান্ড ভ্রমণে ইচ্ছুক পর্যটকদের জন্য খুব শিগগিরই একটি নতুন নিয়ম চালু হতে যাচ্ছে। ব্যাগ গোছানোর আগে তাদের হয়তো এখন বাধ্যতামূলকভাবে স্বাস্থ্যবিমা করতে হবে।
নেশন থাইল্যান্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিদেশি পর্যটকদের বকেয়া চিকিৎসা বিলের বোঝা কমাতে এবং তাদের উন্নত স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে থাইল্যান্ড সরকার এই পদক্ষেপ বিবেচনা করছে।
দেশটির জনস্বাস্থ্যমন্ত্রী পাত্তানা প্রমফাত এক বিবৃতিতে বলেছেন, থাইল্যান্ডের স্বাস্থ্যব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার অংশ হিসেবে এই প্রস্তাব আনা হয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে প্রধান চ্যালেঞ্জ আইনি বাধা নয়, বরং প্রক্রিয়াগুলোকে আরও দ্রুত ও কার্যকর করা, বিশেষ করে ওষুধ সুরক্ষা, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্য প্রযুক্তির ক্ষেত্রে।
বাধ্যতামূলক বিমা পর্যালোচনাধীন
পর্যটক, বিদেশি কর্মী ও স্বল্প সময়ের দর্শনার্থীসহ থাইল্যান্ডে প্রবেশকারী সব বিদেশির জন্য স্বাস্থ্যবিমা বাধ্যতামূলক করা হবে কি না, তা বর্তমানে মূল্যায়ন করছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
পাত্তানা জানান, বিদেশি রোগীরা যখন বিল পরিশোধ করতে পারেন না, তখন তা থাইল্যান্ডের স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর আর্থিক চাপ সৃষ্টি করে। এই ঘাটতি দূর করতেই বিমার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
বিমার কিস্তি বা প্রিমিয়াম কত হবে, তা নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি এমন এক যুক্তিসঙ্গত পর্যায়ে রাখা হবে, যাতে পর্যটকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি না হয় এবং ভ্রমণে নিরুৎসাহিত না হয়।
সীমান্তবর্তী স্বাস্থ্যব্যবস্থায় চাপ
এই সমস্যা বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে বেশি দেখা যায়। সেখানে হাসপাতালগুলোকে প্রায়ই এমন রোগীদের চিকিৎসা দিতে হয়, যাদের নাগরিকত্ব বা আইনি মর্যাদা যাচাই করা হচ্ছে।
পাত্তানা জানান, এসব ব্যক্তিদের যথাযথভাবে স্বাস্থ্য সুরক্ষাব্যবস্থার আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে কাজ করতে বলা হয়েছে। এছাড়া যেসব বিদেশি রোগী বিল পরিশোধ না করেই চলে যান, তাদের ক্ষেত্রে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে আলোচনা চলছে।
পাত্তানা জোর দিয়ে বলেন, থাইল্যান্ডের স্বাস্থ্যব্যবস্থা অত্যন্ত শক্তিশালী ও স্বচ্ছ, যা উন্নত সেবা দিতে সক্ষম। থাইল্যান্ড নিজেকে এই অঞ্চলের স্বাস্থ্যকেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়।
মন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহায়তায় যেকোনো দেশের অসহায় বা পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর আন্তঃসীমান্ত চিকিৎসা সেবা দিতে থাইল্যান্ড প্রস্তুত। জেনেভায় আসন্ন একটি বৈঠকে বেশ কয়েকটি দেশ এই বিষয়ে থাইল্যান্ডের সঙ্গে আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি