ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে অংশ নেওয়া মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড মধ্যপ্রাচ্য ত্যাগ করেছে। একজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে এখন যুক্তরাষ্ট্রের দুটি বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ও ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ অবস্থান করছে।
শনিবার (২ মে) গালফ নিউজ জানিয়েছে, ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর এই প্রথম কোনো মার্কিন রণতরি এত দীর্ঘসময় সমুদ্রে অবস্থান করল। টানা ১০ মাসেরও বেশি সময় মোতায়েন ছিল জেরাল্ড আর ফোর্ড।
গত ১২ মার্চ এই রণতরিটির লন্ড্রি কক্ষে আগুন লেগে দুজন নৌ সেনা আহত হন।
এদিকে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধের ৬০ দিনের আইনি সময়সীমা পার হওয়ায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আইনপ্রণেতাদের জানিয়েছেন, এই যুদ্ধ এখন ‘শেষ’।
কংগ্রেস নেতাদের কাছে লেখা এক চিঠিতে ট্রাম্প জানান, ‘২০২৬ সালের ৭ এপ্রিলের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো গোলাগুলি হয়নি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যে সংঘাত শুরু হয়েছিল, তা শেষ হয়েছে।’
মূলত কংগ্রেসের কাছ থেকে যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন নেওয়ার বিতর্ক এড়াতেই ট্রাম্প এই ঘোষণা দিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৭৩ সালের ওয়ার পাওয়ার রেজোল্যুশন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট যদি কংগ্রেসের আগাম অনুমতি ছাড়া কোথাও যুদ্ধ শুরু করেন, তাহলে তিনি সর্বোচ্চ ৬০ দিন পর্যন্ত সেই যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারেন। এরপর যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হলে তাকে অবশ্যই কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক অনুমতি নিতে হবে।
আলোচনা নিয়ে অনিশ্চয়তা
শুক্রবার ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, ইরানের সঙ্গে আলোচনার বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত। ইরানের দেওয়া প্রস্তাবগুলোতে তিনি ‘সন্তুষ্ট নন’ উল্লেখ করে ট্রাম্প কূটনীতি এবং সামরিক পদক্ষেপ উভয় পথই খোলা রেখেছেন।
ইরানি নেতৃত্বের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘তারা একটি চুক্তি করতে চায়, কিন্তু তারা নিজেরা অগোছালো ও বিচ্ছিন্ন। তাদের নেতাদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও মতবিরোধ রয়েছে। তারা জানেই না, তাদের নেতা আসলে কে।’
ট্রাম্পের দাবি, তেহরানের এই অভ্যন্তরীণ অনৈক্য তাদের আলোচনার অবস্থানকে দুর্বল করে দিচ্ছে।