শান্তি আলোচনাকে কেন্দ্র করে ইরানের নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অপমান করছে’ বলে মন্তব্য করেছেন জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস। তিনি বলেছেন, ইরানিরা দর কষাকষিতে ‘বেশ দক্ষ’। মার্কিন কর্মকর্তাদের পাকিস্তান যেতে বাধ্য করা হচ্ছে এবং শেষ পর্যন্ত কোনো ফলাফল ছাড়াই তারা ফিরে আসছেন।
জার্মানির মারসবার্গ শহরে সোমবার (২৭ এপ্রিল) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলাপকালে জার্মান চ্যান্সেলর এসব কথা বলেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
মের্ৎস বলেন, ‘ইরানিরা স্পষ্টতই দর কষাকষিতে বেশ দক্ষ, অথবা আরও স্পষ্টভাবে বলতে গেলে, আলোচনা না চালিয়েই আমেরিকানদের ইসলামাবাদ পর্যন্ত নেওয়া এবং কোনো ফলাফল ছাড়াই তাদের ফেরত পাঠাতে তারা বেশ পারদর্শী।’
‘একটি গোটা জাতিকে ইরানের নেতৃত্ব, বিশেষ করে বিপ্লবী গার্ড অপমান করছে। আশা করি, এটি যত দ্রুত সম্ভব শেষ হবে,’ যোগ করেন তিনি।
মের্ৎস জানান, যুক্তরাষ্ট্র আসলে ইরান যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য কোন কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে, তা তিনি বুঝতে পারছেন না।
রয়টার্স বলছে, জার্মান নেতার এই মন্তব্য ওয়াশিংটন এবং তার ইউরোপীয় ন্যাটো মিত্রদের মধ্যে তৈরি হওয়া গভীর ফাটলকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে, যা মূলত ইউক্রেন ইস্যু এবং অন্যান্য বিষয়ে আগে থেকেই বিদ্যমান ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে ন্যাটো মিত্রদের কঠোর সমালোচনা করেছিলেন, কারণ তারা হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে নৌবাহিনী পাঠিয়ে সাহায্য করেনি। বর্তমানে এই জলপথ কার্যত বন্ধ রয়েছে, যা বিশ্ববাজারে অস্থিরতা এবং জ্বালানি সরবরাহে নজিরবিহীন বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের সমালোচনার জবাবে জার্মানির চ্যান্সেলর এদিন স্মরণ করিয়ে দেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরুর আগে জার্মানি বা ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে কোনো পরামর্শ করা হয়নি।
মের্ৎস জানান, পরবর্তীতে তিনি সরাসরি ট্রাম্পের কাছে এই বিষয়ে তার সংশয় প্রকাশ করেছিলেন।
ইরাক ও আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের আগের যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করে চ্যান্সেলর বলেন, ‘আমি যদি জানতাম, এটি এভাবে পাঁচ-ছয় সপ্তাহ ধরে চলবে এবং পরিস্থিতি দিনকে দিন আরও খারাপ হবে, তাহলে আমি তাকে (ট্রাম্পকে) আরও জোর দিয়ে বলতাম।’