দক্ষিণ লেবাননের তায়রি শহরে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে বুধবার (২২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন লেবানিজ সাংবাদিক আমাল খলিল। নিহত হওয়ার কয়েক মিনিট আগে এই সাংবাদিক তার ফেসবুক পোস্টে একটি বিশেষ খবর দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে মিডল ইস্ট মনিটর।
পোস্টে খলিল লেখেন, লেবাননের রমেইশ এলাকার বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্মীরা বিনত জবেইল থেকে আইন ইবেলে আসা এক আহত যোদ্ধাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছেন। এরপর তাকে নিরাপদ এলাকায় স্থানান্তরের জন্য লেবানিজ রেড ক্রসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।
খলিল জানান, দেবেলে মোতায়েন থাকা ইসরায়েলি বাহিনী ওই আহত যোদ্ধার বিষয়ে জেনেছে। তারা জরুরি স্বাস্থ্যকর্মীদের ফোন করে ওই ব্যক্তিকে তাদের হাতে তুলে দিতে বলে। নইলে অ্যাম্বুলেন্স লক্ষ্য করে হামলার হুমকি দেওয়া হয়। স্বাস্থ্যকর্মীরা এই নির্দেশ মানেননি।
খলিল আরও জানান, আকাশে ইসরায়েলের নজরদারি ড্রোন বেশ নিচ দিয়ে উড়তে থাকায় স্বাস্থ্যকর্মী এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবন বাঁচাতে আহত ওই যোদ্ধা নিজেই দেবেলে গিয়ে আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নেন।
বুধবার সকাল থেকে লেবাননে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এর মধ্যে সন্ধ্যায় ইসরায়েলি গোলাবর্ষণ তায়রি শহরে আঘাত হানে; যার লক্ষ্যবস্তু ছিলেন সাংবাদিক আমাল খলিল এবং আলোকচিত্রী জয়নাব ফারাজ। তারা সেখানে মাঠপর্যায়ে সংবাদ সংগ্রহ করছিলেন।
উদ্ধারকারী দলগুলো ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে চরম প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়। অভিযোগ রয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী স্বাস্থ্যকর্মীদের খলিল ও ফারাজের অবস্থানস্থলে পৌঁছাতে বাধা দেয়।
পরে ব্যাপক যোগাযোগ ও তৎপরতার পর সেনাবাহিনীর পাহারায় একটি অ্যাম্বুলেন্স তায়রি শহরে প্রবেশে সক্ষম হয়।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স নিশ্চিত করেছে, একটি বিধ্বস্ত ভবনের ভেতর থেকে আমাল খলিলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আর বিমান হামলায় আহত ফারাজকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।