আল জাজিরার প্রতিবেদন
যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর দক্ষিণ লেবাননের হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষ শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) নিজ নিজ এলাকায় ফিরতে শুরু করেন। কিন্তু ফিরে এসে দেখেন, তাদের বাড়িঘর নেই। ইসরায়েলের বোমাবর্ষণে সব ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। শুধু বসতভিটাই নয়, দক্ষিণের একেকটি গ্রাম ও শহর ধ্বংসস্তূপে পরিণত।
লেবাননে কেয়ার ইন্টারন্যাশনালের যোগাযোগ সমন্বয়কারী সিরিল বাসিল শনিবার আল জাজিরাকে বলেন, ‘বাবা, মা, বৃদ্ধ ও ছোট শিশুরা ফিরে এসে দেখছে, শুধু তাদের ঘরবাড়িই নয়, পুরো গ্রাম ও শহর পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।’
বৈরুত থেকে তিনি বলেন, ‘তাদের মধ্যে কেউ কেউ আমাদের বলেছেন, তারা তাদের বিধ্বস্ত ঘরবাড়ির সামনেই খোলা আকাশের নিচে ঘুমাবেন, কারণ তারা নিজের ভিটায় থাকতে চান। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সেখানে কিছুই নেই। তাদের জরুরি ভিত্তিতে পানি, গরম খাবার ও স্যানিটারি সামগ্রী প্রয়োজন।’
ইসরায়েলের সঙ্গে গত মার্চের শুরুতে উত্তেজনা শুরু হওয়ার পর থেকে কেয়ার ইন্টারন্যাশনালের কর্মীরা দক্ষিণ লেবাননে গরম খাবার, পানি, তোষক ও কম্বল বিতরণ করে আসছেন। এখনও সেখানে সাত লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই গাড়ি, সৈকত ও ফুটপাতে রাত কাটাচ্ছেন।
বাসিল বলেন, ‘লেবাননে এখন বৃষ্টি হচ্ছে। প্রচণ্ড শীত এখানে। একবার ভাবুন, এসব শিশু ও তাদের পরিবার বৃষ্টির মধ্যে বাইরে খোলা আকাশের নিচে ঘুমাচ্ছে।’
ত্রাণ সহায়তা বিতরণের সময় ভুক্তভোগীদের মানসিক অবস্থা সম্পর্কে জানাতে গিয়ে কেয়ার ইন্টারন্যাশনালের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তারা বিমান হামলায় এতটাই আতঙ্কিত ও ক্লান্ত যে, কথা বলার সময় ঠিকমতো পুরো বাক্যও শেষ করতে পারছেন না।’
এসময় যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব সম্পর্কে রূঢ় বাস্তবতা তুলে ধরেন বাসিল। ২০১৯ সাল থেকেই লেবানন সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যা ২০২০ সালে বৈরুতের বন্দরে বিস্ফোরণ ও ২০২৪ সালে যুদ্ধের ফলে আরও প্রকট হয়।
তিনি বলেন, ‘ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণ করা সম্ভব, কিন্তু বিধ্বস্ত মানুষকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা অনেক কঠিন। তাদের আত্মা ও নিরাপত্তার বোধ পুনর্গঠন করা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।’