ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধবিরতির ফলে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা শিগগিরই শেষ হতে পারে—এমন আশা দেখা যাওয়ায় বিশ্ববাজারে কমেছে তেলের দাম। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়া এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠকের ইঙ্গিত বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি করেছে। এতে করে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের ফিউচার দাম ১ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৯৮.০৫ ডলারে (৭২.৮৬ পাউন্ড) নেমে এসেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ১.৭৪ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৯৩.৪০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
ইরান যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বাধা হিসেবে থাকা হরমুজ প্রণালি প্রায় সাত সপ্তাহ ধরে বন্ধ রয়েছে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প জানান, তেহরান ২০ বছরের বেশি সময় ধরে পারমাণবিক অস্ত্র না রাখার প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, কি হয় দেখা যাক। তবে আমার মনে হয় আমরা ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি।
রয়টার্স জানিয়েছে, গত মার্চ মাসে তেলের দাম রেকর্ড পরিমাণে প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছিল। সম্প্রতি তা ১০০ ডলারের নিচে নেমে এলেও পুরো সপ্তাহজুড়ে ৯০ ডলারের ঘরেই অবস্থান করছে।
এদিকে ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এই সপ্তাহান্তে পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠক হতে পারে। তার এই মন্তব্য বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
সপ্তাহজুড়ে ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর শুক্রবার সকালে এশিয়ার প্রধান বাজারগুলো সামান্য নিম্নমুখী হয়েছে। জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ০.৮ শতাংশ কমেছে, অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি ০.৩ শতাংশ কমেছে।
লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান ইরান যুদ্ধের অবসানে ট্রাম্পের উদ্যোগের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ফেব্রুয়ারির শেষদিকে ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে এই যুদ্ধ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। তবে রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচকরা এখন একটি পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তির পরিবর্তে সাময়িক সমঝোতা স্মারক তৈরির দিকে ঝুঁকছেন। এতে করে আবার সংঘাতে ফিরে যাওয়া ঠেকানো সম্ভব হবে।