তেল অবরোধের কারণে টানা বিদ্যুৎ সংকটে বিপর্যস্ত কিউবা জানিয়েছে, সম্ভাব্য যেকোনো মার্কিন হামলার জন্য তারা প্রস্তুত। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের তেল অবরোধে দেশটির অর্থনীতি চরম সংকটের মুখে পড়েছে। সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে।
রোববার দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কার্লোস ফার্নান্দেজ দে কসিও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকির প্রেক্ষিতে কিউবা সব ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা মনে করি না এটি খুব সম্ভাব্য, কিন্তু প্রস্তুত না থাকলে বোকামি হবে। ইতিহাসগতভাবেই আমরা সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে জাতি হিসেবে প্রস্তুত।’
তার এই মন্তব্য আসে দেশটির জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড আবারও ধসে পড়ার একদিন পর। সর্বশেষ এই ব্ল্যাকআউটে লাখো মানুষ অন্ধকারের মুখে পড়েছে। গত এক সপ্তাহে এটি দ্বিতীয় এবং মার্চ মাসে তৃতীয় বড় বিদ্যুৎ বিপর্যয়।
দেশটির রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ সংস্থা ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাজধানী হাভানায় প্রায় ৭২ হাজার গ্রাহকের বিদ্যুৎ সরবরাহ আংশিকভাবে পুনরুদ্ধার হয়েছে, যার মধ্যে পাঁচটি হাসপাতালও রয়েছে। তবে এটি প্রায় ২০ লাখ জনসংখ্যার শহরের খুবই সামান্য অংশ।
কর্তৃপক্ষ জানায়, কামাগুয়ে প্রদেশের নুয়েভিতাস তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি ইউনিট হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পুরো জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
এদিকে, ট্রাম্প চলতি বছরের শুরু থেকে কিউবায় তেল সরবরাহে বাধা দিয়ে আসছেন। তিনি সতর্ক করেছেন, যারা কিউবায় তেল সরবরাহ করবে, তাদের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করা হতে পারে।
কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-ক্যানেল জানিয়েছেন, দেশটি গত তিন মাস ধরে কোনো বিদেশি তেল পায়নি। বর্তমানে কিউবা তার প্রয়োজনীয় জ্বালানির মাত্র ৪০ শতাংশ নিজে উৎপাদন করতে পারছে।
এর আগে ১৬ মার্চ ট্রাম্প কিউবার বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নেন এবং দাবি করেন, দেশটি সরকার পতনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে।
তবে কিউবা স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তাদের শাসনব্যবস্থা নিয়ে কোনো আলোচনা হবে না। হাভানা ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান আলোচনাকে তারা ‘গুরুত্বপূর্ণ ও দায়িত্বশীল সংলাপ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলীয় কমান্ডের প্রধান জেনারেল ফ্রান্সিস ডোনোভান জানিয়েছেন, কিউবায় হামলার কোনো প্রস্তুতি চলছে না। তবে প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র তাদের দূতাবাস, গুয়ানতানামো বে ঘাঁটি এবং সম্ভাব্য অভিবাসন পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে।
এদিকে, মার্কিন দূতাবাসের জেনারেটরের জন্য ডিজেল আমদানির অনুরোধও কিউবা সরকার প্রত্যাখ্যান করেছে বলে জানা গেছে।