চাকরির বাজারে এক অদৃশ্য পরিবর্তন ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। অফিসের ডেস্কে বসে থাকা অনেক কাজ এখন আর মানুষের হাতে সীমাবদ্ধ নেই—নীরবে সেই জায়গা দখল করছে নতুন এক প্রযুক্তি। কেউ কেউ এটাকে ভবিষ্যতের বিপ্লব বলছেন, আবার কেউ দেখছেন আসন্ন এক বড় সংকটের পূর্বাভাস হিসেবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিবর্তনের ঢেউ এখনো পুরোপুরি চোখে না পড়লেও, খুব শিগগিরই এর প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
এই প্রেক্ষাপটেই সামনে এসেছে আন্তর্জাতিক অর্থভান্ডার বা আইএমএফ-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। তাদের সমীক্ষা অনুযায়ী, ভারতে প্রায় ২৬ শতাংশ চাকরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর প্রভাবে পড়তে পারে। অর্থাৎ, এই বিপুল সংখ্যক কাজের ধরনে পরিবর্তন আসতে পারে, আর কমে যেতে পারে মানুষের সরাসরি ভূমিকা, কিংবা পুরোপুরি বদলে যেতে পারে কর্মসংস্থানের কাঠামো।
সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন নতুন প্রজন্মের কর্মীরা—যারা সদ্য পড়াশোনা শেষ করে চাকরির বাজারে প্রবেশ করছেন। কারণ, তাদের অনেক কাজই মূলত তথ্য বিশ্লেষণ, ডেটা প্রসেসিং, রিপোর্ট তৈরি বা রুটিন অফিসের কাজের ওপর নির্ভরশীল। এ ধরনের কাজ এখন এআই খুব দ্রুত এবং নির্ভুলভাবে করতে পারছে। ফলে, অভিজ্ঞতাহীন নতুন কর্মীদের সুযোগ কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আইএমএফ-এর প্রধান ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা সতর্ক করে বলেছেন, ‘শুধু ভারত নয়, বিশ্বজুড়েই প্রায় ৪০ শতাংশ চাকরি এআই-এর প্রভাবে আসতে পারে। উন্নত দেশগুলোতে এই প্রভাব আরও বেশি হতে পারে। তবে তিনি এটাও বলেছেন, এআইকে পুরোপুরি বাধা দেওয়া সম্ভব নয়, বরং এটিকে সঠিকভাবে ব্যবহার করাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এবং সুযোগ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যারা নতুন প্রযুক্তি শেখার দিকে দ্রুত এগোবেন, তারাই ভবিষ্যতে এগিয়ে থাকবেন। এআই-এর সঙ্গে কাজ করার দক্ষতা, নতুন স্কিল অর্জন এবং প্রযুক্তির সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়াই হবে টিকে থাকার মূল চাবিকাঠি, কারণ ইতিহাস বলছে, প্রতিটি প্রযুক্তিগত বিপ্লব কিছু চাকরি কমালেও, নতুন ধরনের চাকরির দরজাও খুলে দেয়। তাই এই পরিবর্তন শুধু সংকট নয়, প্রস্তুত থাকলে এটিই হতে পারে নতুন সম্ভাবনার শুরু।