ভারতের ঝাড়খণ্ডের সেই হোটেল ব্যবসায়ীর পরিবার উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে দিল্লি নিয়ে যাচ্ছিলেন। এই যাত্রার খরচ মেটাতে তারা সাড়ে ৭ লাখ রুপি ঋণ করেছিলেন। কিন্তু এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় সেই জীবন বাঁচানোর লড়াই শেষ হলো সাতটি প্রাণের বিনিময়ে।
এক প্রতিবেদনে এনডিটিভি জানিয়েছে, রেডবার্ড এয়ারওয়েজ প্রাইভেট লিমিটেড পরিচালিত বিচক্র্যাফট সি-৯০ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টা ১১ মিনিটে ঝাড়খন্ড রাজ্যের রাঁচি শহর থেকে উড্ডয়ন করে। এর প্রায় ২০ মিনিট পর এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে বিমানটির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে রাজ্যের চাতরা জেলায় এক বনাঞ্চলে বিমানটি বিধ্বস্ত হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
এই দুর্ঘটনায় নিহত সাতজন হলেন—দগ্ধ রোগী সঞ্জয় কুমার শ, তার স্ত্রী অর্চনা দেবী, আত্মীয় ধ্রুব কুমার, চিকিৎসক বিকাশ কুমার গুপ্ত, নার্স শচীন কুমার মিশ্র এবং ক্যাপ্টেন বিবেক বিকাশ ভগত ও ক্যাপ্টেন সবরাজদীপ সিং নামের দুজন পাইলট।
হোটেলে আগুন, শরীরের ৬৫ শতাংশ দগ্ধ
ঝাড়খন্ডের লাতেহার জেলার চান্দওয়ায় একটি হোটেল চালাতেন সঞ্জয়। সোমবার তার হোটেলে শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগলে সেই আগুনে তিনি আটকা পড়েন। এতে তার শরীরের ৬৫ শতাংশ পুড়ে যায়।
রাঁচির একটি বেসরকারি হাসপাতালে সঞ্জয়ের চিকিৎসা চলছিল। তবে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে দিল্লির শ্রী গঙ্গারাম হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন।
শারীরিক অবস্থার কারণে সড়কপথে যাতায়াত সম্ভব ছিল না। তাই স্বজনদের কাছ থেকে সাড়ে ৭ লাখ রুপি ধার করে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করে তার পরিবার। চিকিৎসার খরচের জন্যও কিছু টাকা আলাদা রাখা হয়েছিল।
শোকার্ত পরিবার
সঞ্জয়ের বড় ভাই বিজয় শ তাকে রাঁচি বিমানবন্দরে বিদায় জানাতে গিয়েছিলেন।
এনডিটিভিকে তিনি বলেন, ‘আমরা মাত্রই বাড়ি ফিরেছিলাম। তখনই টিভিতে খবরে দুর্ঘটনার কথা জানতে পারি। এক মুহূর্তেই সব শেষ হয়ে গেল।’
সঞ্জয় আর তার স্ত্রী অর্চনা—উভয়ের মৃত্যুতে তাদের দুই সন্তান এখন এতিম। পরিবারের অভিযোগ, রাঁচিতে যদি উন্নত চিকিৎসাব্যবস্থা থাকত, তাহলে সঞ্জয়কে এভাবে এয়ারলিফট করার প্রয়োজন হতো না।
এ বিষয়ে শোকগ্রস্ত এক আত্মীয় বার্তা সংস্থা পিটিআইকে বলেন, ‘রাঁচিতে যদি আমার ভগ্নিপতি সঞ্জয়ের যথাযথ চিকিৎসা করা যেত, তাহলে মূল্যবান প্রাণগুলো বাঁচানো সম্ভব হতো। আমি একসঙ্গে সঞ্জয় আর আমার বোন অর্চনাকে হারালাম।’
রাঁচির দেবকমল হাসপাতালে, যেখানে সঞ্জয়ের চিকিৎসা চলছিল, সেখানকার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) অনন্ত সিনহা জানান, তাদেরই একজন রোগীর মাধ্যমে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
দুর্ঘটনায় নিহত চিকিৎসক বিকাশ কুমার গুপ্তর বাবা বজরঙ্গি প্রসাদ জানান, ছেলেকে ডাক্তার বানাতে তিনি তার সব জমি বিক্রি করে দিয়েছিলেন। মেধাবী এই চিকিৎসক ওড়িশার কটক থেকে এমবিবিএস শেষ করে রাঁচির সদর হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। বিকাশের সাত বছরের একটি ছেলে আছে।