ক্যারিয়ারের একটা সময়ে বিশ্বের দ্রুততম বোলার হিসেবে পরিচিত ছিলেন পাকিস্তানের কিংবদন্তি ফাস্ট বোলার শোয়েব আখতার। নিজের সেরা সময়ে গতির লড়াইয়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্রেট লি ও নিউজিল্যান্ডের শেন বন্ডের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন পাকিস্তানের এই তারকা পেসার।
সম্প্রতি জনপ্রিয় পাকিস্তানি কমেডি ও টক শো ‘হাসনা মানা হ্যায়’-তে অতিথি হিসেবে হাজির হয়েছিলেন শোয়েব আখতার। অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে আলোচনায় আসে সর্বকালের সেরা ব্যাটার কে? সেখানে ভারতের কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকারের নাম বলতে একটুও দ্বিধা করেননি তিনি।
শোয়েব জানান, তিনি ভিভ রিচার্ডসকে খেলতে দেখেননি। তবে ইমরান খান ও ওয়াসিম আকরামের মতো মহান ক্রিকেটারদের খেলা দেখেছেন। মার্টিন ক্রো ও রিকি পন্টিং তার পছন্দের খেলোয়াড় হলেও, ব্যাটিংয়ের বিচারে সর্বকালের সেরা শচীন টেন্ডুলকারই—এমনটাই মনে করেন তিনি।
অনুষ্ঠানের সঞ্চালক শোয়েবকে সেই বিখ্যাত কলকাতা টেস্টের কথাও মনে করিয়ে দেন। সেই ম্যাচে পরপর বলে রাহুল দ্রাবিড় ও শচীন টেন্ডুলকারকে আউট করেছিলেন তিনি। সেই ঘটনা স্মরণ করে শোয়েব বলেন, ‘আগের রাতেই আমি সাকলাইনকে বলেছিলাম আমি তাকে আউট করব। শচীন সর্বকালের সেরা ব্যাটার, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ব্যস, এটুকুই।’
৫১ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার আরও বলেন, মিডিয়া এমন একটি ধারণা তৈরি করেছিল যে শচীন তাকে ভয় পেতেন। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি তেমন ছিল না। শোয়েবের ভাষায়, ‘আজও আমি জোর দিয়ে বলতে পারি, তিনি অত্যন্ত বড় মাপের খেলোয়াড় ছিলেন।’
কলকাতার সেই ইনিংস নিয়ে নিজের মূল্যায়নও জানিয়েছেন শোয়েব। তার মনে হয়েছিল, সেই ইনিংসে ব্যাট করার জন্য শচীন যথেষ্ট প্রস্তুত ছিলেন না। একই সঙ্গে ভারতীয় ব্যাটাররা তার গতির সঙ্গে অভ্যস্ত ছিলেন না বলেও মনে করেন তিনি।
সেই ইনিংসে শচীন টেন্ডুলকার বোল্ড হয়েছিলেন। পরের ইনিংসে তিনি রান-আউট হন। সেই রান-আউট ঘিরে তৈরি হয়েছিল ব্যাপক বিতর্ক। অনেকের ধারণা ছিল, বোলার ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যাটারের পথে বাধা সৃষ্টি করেছিলেন।
শচীনের সেই উইকেটের পর ক্ষুব্ধ দর্শকরা মাঠে বোতলসহ বিভিন্ন বস্তু ছুড়তে শুরু করেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যায় যে শেষ দিনের খেলা হয়েছিল দর্শকশূন্য ইডেন গার্ডেন্সে। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি জিতে নেয় পাকিস্তান।
সেই উত্তাল সময়ের স্মৃতিচারণ করে ‘রাওয়ালপিন্ডি এক্সপ্রেস’ খ্যাত শোয়েব বলেন, পাথর ছোড়া হয়েছিল এবং ব্যাপক বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল। ম্যাচ শেষে কলকাতার একটি বিখ্যাত হোটেলে অবস্থান করছিল পাকিস্তান দল। সেখানে পুরো দল পার্টিও করেছিল বলে জানান তিনি।
শচীন বনাম শোয়েবের মুখোমুখি
১৯৯৯ সালের সেই ম্যাচে আউট হওয়ার পর পরবর্তী সময়ে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শচীন টেন্ডুলকার শোয়েব আখতারের বিপক্ষে আধিপত্য দেখিয়েছেন। ২০০৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে শোয়েবের বলে শচীনের মারা ‘আপার-কাট’ শটটি বিশাল ছক্কায় পরিণত হয়। পরে সেটি ক্রিকেটের অন্যতম আইকনিক শট হিসেবে পরিচিতি পায়।
২০০৬ সালের সফরে শর্ট বলের সাহায্যে ভারতের সাবেক অধিনায়ককে আউট করেছিলেন শোয়েব। টেস্ট ক্রিকেটে শোয়েবের বিপক্ষে শচীনের সংগ্রহ ৭৯ রান, যেখানে তিনি দুবার আউট হয়েছেন। ওয়ানডেতে শচীন করেছেন ১৩৮ রান এবং চারবার শোয়েবের শিকার হয়েছেন।
আইপিএলেও দুজনের দেখা হয়েছিল। শোয়েব আখতার কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে খেলেছিলেন। সেই আসরে তাদের একমাত্র মুখোমুখি লড়াইয়ে শচীনকে আউট করেছিলেন পাকিস্তানের এই গতিদানব।
একদিকে শোয়েবের গতি, অন্যদিকে শচীনের ব্যাটিং দক্ষতা—দুজনের লড়াই ক্রিকেটের অন্যতম আলোচিত দ্বৈরথ হয়ে আছে। সময় পেরিয়ে গেলেও সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতার গল্প এখনো ক্রিকেটপ্রেমীদের আলোচনায় ফিরে আসে।