ডারউইন টেস্টের প্রথম দিন পুরোটা মাঠে থাকতে পারেনি মাইটি অস্ট্রেলিয়া। তার আগেই ১৯৮ রানে অলআউট হয়েছে তারা। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৭১ রান করেছেন স্টিভ স্মিথ। তবে তার ইনিংসটা ছিল নাটকীয়তায় ভরা। ব্যক্তিগত ২ রানে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে জীবন পাওয়ার পর বাংলাদেশের রিভিউতে আউট ভেবে ড্রেসিংরুমের পথেও হাঁটা শুরু করেছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত প্রযুক্তির সিদ্ধান্তে বেঁচে যান সেই স্মিথই।
অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম চ্যানেল সেভেনের ধারাভাষ্যকার টিম লেন বলেন, ‘সাইড-অন ক্যামেরা থেকে দেখা যাচ্ছে, স্মিথ মিড উইকেটের দিকে প্রায় ২০ মিটার হেঁটে গেছেন। স্মিথ ড্রেসিংরুমের পথে ছিলেন। কিন্তু জীবন পাওয়ার সম্ভাবনা টের পেয়ে এখন আবার ক্রিজে ফিরে এসেছেন...মনে হচ্ছে স্মিথ ব্যাটে বল লেগেছে বুঝেও বেঁচে গেলেন। স্লিপে ক্যাচ মিসের পর এটি তার দ্বিতীয়বার জীবন পাওয়া।’
ঘটনাটি অবাক করেছে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ওপেনার ম্যাথু হেইডেনকেও। প্রযুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিগত মতামত হলো, এটি খেলায় প্রচুর বিভ্রান্তি তৈরি করছে। তবে ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্বে আছেন বিশ্বের অন্যতম সেরা দুই আম্পায়ার রিচার্ড ইলিংওয়ার্থ ও ধর্মসেনা, যারা নিজেরাও অসাধারণ খেলোয়াড় ছিলেন। প্রশংসা করতেই হবে যে ভুল সিদ্ধান্ত নেননি।’
স্মিথের আচরণ নিয়েও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন হেইডেন। তিনি বলেন, ‘স্মিথের প্রতিক্রিয়া ছিল বিস্ময়কর। (আউটের) ঝুঁকি থাকলেও সবাই তো নিজের (ক্রিজে) জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকার কথাই ভাববে।’
অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নারের কাছেও পুরো ঘটনাটি অদ্ভুত লেগেছে। কায়ো স্পোর্টসকে তিনি বলেন, ‘অদ্ভুত ব্যাপার। কারণ সে ড্রেসিংরুমের পথে হাঁটা শুরু করে দিয়েছিল।’
দিন শেষে সেই বিতর্কিত বল নিয়ে প্রশ্ন করা হলে স্মিথও স্বীকার করেন, ‘আমার মনে হয় সেটাই (লেগেছিল)।’ উইকেটে টিকে যাওয়াকে ভাগ্য মনে করছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ ভাগ্যবানই বটে। এমনিতে টেকনোলোজি ভালো কাজ করছে, এটাই আমাকে বাঁচিয়ে দিয়েছ হয়তো।’