গতকাল রোববার দুপুরে রোজারিওর এল প্রাদো কবরস্থানে সম্পন্ন হয়েছে লিওনেল মেসির বাবা হোর্হে মেসির শেষকৃত্য। পরিবারের পক্ষ থেকে পুরো আয়োজনটি একান্ত ব্যক্তিগত রাখার চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত সেই গোপনীয়তা রক্ষা হয়নি। কবরস্থানের ওপর ড্রোন উড়িয়ে শোকাহত পরিবারের ছবি ধারণের অভিযোগ উঠেছে কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলের বিরুদ্ধে।
৬৮ বছর বয়সে রোজারিওর একটি হাসপাতালে মারা যান হোর্হে মেসি। বাবাকে শেষ বিদায় জানাতে স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো ও তিন সন্তানকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিশেষ বিমানে রোজারিও পৌঁছান মেসি। পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্যরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
শেষকৃত্যকে ঘিরে কবরস্থানে ছিল কঠোর নিরাপত্তা। শনিবার দুপুর থেকেই সাধারণ মানুষের প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিন্তু এর মধ্যেই কবরস্থানের ওপর ড্রোন উড়তে দেখা যায়। অভিযোগ, বুয়েনস আইরেসভিত্তিক কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেল এসব ড্রোন ব্যবহার করে শোকাহত পরিবারের ছবি ধারণের চেষ্টা করেছে।
ঘটনাটি নিয়ে আর্জেন্টিনায় শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। অনেকেই ব্যক্তিগত শোকের এমন মুহূর্তে ছবি ধারণের চেষ্টাকে সাংবাদিকতার নৈতিকতার পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পরে সান্তা ফে পুলিশ কবরস্থান এলাকায় ড্রোন ওড়ানো নিষিদ্ধ করে।
এদিকে ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে মেসির আইনি দল। পরিবারের ব্যক্তিগত মুহূর্তের গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
তবে কবরস্থানের বাইরে ছিল ভিন্ন এক দৃশ্য। মেসির প্রতি ভালোবাসা জানাতে দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসেন ভক্তরা। ১৫ বছর বয়সী লুকাস ব্লাঙ্কোও প্রায় ৭০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে সেখানে হাজির হন। অনেকের হাতেই ছিল একটাই বার্তা, ‘মেসি শক্ত থাকুন’।
বাবাকে হারানোর এই কঠিন সময়ে একদিকে যখন মেসি পরিবার নিজেদের শোকটুকু আড়ালে রাখতে চেয়েছে, অন্যদিকে কবরস্থানের বাইরে ভক্তদের ভালোবাসা হয়ে উঠেছে তাদের প্রতি আর্জেন্টিনার মানুষের গভীর সমবেদনার প্রতিচ্ছবি।