দেশজুড়ে লোডশেডিং পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ১০ ঘণ্টার ব্যবধানে দেশে সর্বোচ্চ লোডশেডিংয়ের নতুন রেকর্ড হয়েছে। রোববার (৯ আগস্ট) রাত ১টায় সারাদেশে ৩ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট লোডশেডিং ছিল। তার আগে, বেলা ৩টায় সর্বোচ্চ লোডশেডিং ছিল ৩ হাজার ৬৭১ মেগাওয়াট।
সম্প্রতি অনেক এলাকায় দিন-রাতে মোট ১০ থেকে ১২ ঘন্টা বিদ্যুৎহীন থাকতে হয়েছে গ্রাহকদের। সবচেয়ে ভোগান্তিতে রয়েছেন গ্রামের মানুষ।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) জানিয়েছে, কয়লা ও গ্যাস সংকটের কারণে স্বাভাবিক সময়ের মতো বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাচ্ছে না। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ভারতের আদানি গ্রুপের বিদ্যুৎ উৎপাদন হ্রাস। ফলে লোডশেডিংয়ের রেকর্ড হচ্ছে।
এর আগে গত সপ্তাহে সর্বোচ্চ লোডশেডিং হয়েছিল ৩ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট। কিন্তু রোববার বিকেল ৩টায় লোডশেডিং ছিল ৩ হাজার ৬৭১ মেগাওয়াট। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে পিডিবি ও দেশের সব বিতরণ কোম্পানি। অভিযোগ রয়েছে, অনেক এলাকায় দিনে-রাতে ১০ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ থাকছে না। পিডিবির কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, বিদ্যুতের এমন পরিস্থিতি আগে খুব বেশি হয়নি।
পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি)-এর হিসাব অনুযায়ী, রোববার বিকেল ৩টায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৫৯ মেগাওয়াট। কিন্তু সরবরাহ হয়েছে মাত্র ১২ হাজার ৩৮৮ মেগাওয়াট। বিকেল ৫টায় সরবরাহ কিছুটা বেড়ে ১৩ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছালেও লোডশেডিং ছিল ২ হাজার ৯৬৭ মেগাওয়াট।
পিডিবি জানিয়েছে, আদানির সরবরাহ হঠাৎ করে অর্ধেকে নামিয়ে আনা হয়েছে। সাধারণ পিক আওয়ারে ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট দেওয়া হলেও রোববার বিকেল ৫টায় দেওয়া হয়েছে ৮১৫ মেগাওয়াট। বৈরী আবহাওয়ার কারণে আদানি কয়লা পরিবহন করতে পারছে না। এ কারণে কয়লার মজুতও কমে গেছে। তাই তারা বিদ্যুৎ উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে বলে পিডিবিকে জানিয়েছে।
তবে তাদের এ তথ্য কতটুকু সত্য, তা যাচাই করতে পারেনি পিডিবি। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আপাতত আদানির তথ্য বিশ্বাস করা ছাড়া উপায় নেই। কারণ সেখানে পরিদর্শনের কোনো সুযোগও নেই।
আদানি ছাড়া কয়লা সংকট ও যান্ত্রিক সমস্যার কারণে বড়পুকুরিয়া, বরিশাল ইলেকট্রিক কোম্পানি, মাতারবাড়ী, পায়রা, রামপাল, এস আলম গ্রুপের এসএস পাওয়ার এবং আরএনপিএলের কেন্দ্রগুলোতে বিদ্যুৎ উৎপাদন কম হচ্ছে। এর মধ্যে পায়রার একটি ইউনিট রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত বন্ধ ছিল। সেটি রাতে চালু হয়েছে বলে জানা গেছে। এ কারণে পায়রায় ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের সক্ষমতা থাকলেও উৎপাদন হয়েছে ৭১০ মেগাওয়াট।
গত ২১ জুলাই মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বিকল হওয়ার পর থেকেই বাড়তে থাকে লোডশেডিং ভোগান্তি। সম্প্রতি টার্মিনালটি আংশিকভাবে চালু হলেও গ্যাস সরবরাহ আগের অবস্থায় ফেরেনি।
জ্বালানি সংকটে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ৫ হাজার মেগাওয়াট থেকে নেমেছে সাড়ে ৩ হাজারের ঘরে। এছাড়া ভারতের ঝাড়খন্ডের আদানি কেন্দ্র থেকেও ৪০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত কমেছে বিদ্যুৎ সরবরাহ। ফার্নেসওয়েল নির্ভর কেন্দ্রগুলো থেকেও কমেছে বিদ্যুৎ।
পাওয়ার গ্রিডের তথ্যমতে, গতকাল দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা এবং রাত ১২টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ ছিল চাহিদার তুলনায় ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার সাড়ে ৭০০ মেগাওয়াট কম।