দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্কে টানাপোড়েন এখনো কাটেনি। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে প্রস্তাবিত সফর নিয়ে ভারত সরকারের অনুমোদন ও স্পষ্ট নির্দেশনার অপেক্ষায় আছে ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ড। বিসিসিআইয়ের একটি শীর্ষ সূত্র জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বোর্ড এককভাবে সফরের সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না।
ইন্ডিয়া টুডেকে ওই সূত্র বলেছে, ‘আমরা এটি নিয়ে কাজ করছি এবং বাংলাদেশ সফরের বিষয়ে সরকারের অনুমতি ও স্পষ্ট দিকনির্দেশনা চাইব। এই মুহূর্তে নিজস্বভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ আমাদের নেই। এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, তবে আমরা দ্রুতই সরকারের দ্বারস্থ হব।’
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও এ বিষয়ে বিসিসিআইকে চিঠি দিয়েছে। দুই বোর্ডের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ চলছে বলে নিশ্চিত করেছে ভারতীয় সূত্র। তার ভাষায়, ‘বিসিবি আমাদের চিঠি দিয়েছে এবং তারা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। শিগগিরই এ বিষয়ে পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে।’
পরিকল্পনা অনুযায়ী ২৮ আগস্ট ভারতীয় দলের বাংলাদেশে আসার কথা। ১, ৩ ও ৬ সেপ্টেম্বর তিনটি ওয়ানডে এবং ৯, ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর তিনটি টি-টোয়েন্টি হওয়ার কথা রয়েছে। পুরো সফরটি নির্ভর করছে ভারত সরকারের অনুমোদন ও নির্দেশনার ওপর।
দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্কে সাম্প্রতিক উত্তেজনার শুরু মূলত মুস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে। আইপিএল নিলামে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে তাকে দলে নেওয়ার পর কলকাতা নাইট রাইডার্সকে এই বাংলাদেশি পেসারকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয় বিসিসিআই। এরপর বাংলাদেশও নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো অন্য দেশে সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করলেও তা গ্রহণ করা হয়নি।
পরে দেশে আইপিএলের সম্প্রচার ও প্রচারণার ওপরও স্থগিতাদেশ দেয় বাংলাদেশ সরকার। সব মিলিয়ে সেপ্টেম্বরে প্রস্তাবিত ভারত সফর এখন দুই দেশের ক্রিকেট সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সিরিজটি মাঠে গড়াতে শেষ পর্যন্ত ভারতের সরকারি অনুমোদনই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।