সবুজ মাঠে বল পায়ে জাদু দেখানো নেইমার জুনিয়রের আরেকটি পরিচয় আছে, তিনি একজন পোকারপ্রেমী; সহজ ভাষায় বললে তাস খেলতে ভালোবাসেন তিনি। ফুটবলের বাইরে এই ব্রাজিলিয়ান তারকার সবচেয়ে বড় নেশা এখন পোকারের (জুয়ার) টেবিল, যেখানে নেই গোলপোস্ট, নেই ডিফেন্ডার; আছে কৌশল, ধৈর্য, ভাগ্য আর মানসিক লড়াই।
২০১৪ বিশ্বকাপের সময় ব্রাজিল দলের ক্যাম্পে সতীর্থদের সঙ্গে খেলতে গিয়েই পোকারের সঙ্গে পরিচয় নেইমারের। শুরুতে নিছক বিনোদন হলেও সময়ের সঙ্গে এটি হয়ে ওঠে তার অবসরের সঙ্গী। ২০২২ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হতাশাজনক বিদায়ের পরও লাস ভেগাসে ‘ওয়ার্ল্ড সিরিজ অব পোকার’-এ অংশ নিয়ে আলোচনায় আসেন তিনি।
গত এক যুগে ফুটবলের পাশাপাশি পোকারেও নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেছেন নেইমার। ‘পোকারস্টার্স’-এর ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে বিভিন্ন বড় টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েছেন তিনি। শুধু শখ নয়, এই খেলায় প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব ও কৌশলের জন্যও প্রশংসা পেয়েছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা।
পোকারের টেবিলে নেইমারের আগ্রাসী মানসিকতা, চাপ সামলানোর ক্ষমতা এবং ব্লাফ দেওয়ার দক্ষতা অনেকের নজর কেড়েছে। তবে এই খেলায় তার আগ্রহ নিয়ে সমালোচনাও কম হয়নি। চোটের সময় দীর্ঘ সময় অনলাইন পোকার খেলা কিংবা গুরুত্বপূর্ণ সময়ে টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তবে নেইমারের কাছে পোকার শুধু খেলা নয়, এটি তার মানসিক প্রশান্তির জায়গা। তারকাখ্যাতির চাপ থেকে দূরে গিয়ে এখানে তিনি নিজেকে খুঁজে পান একজন সাধারণ প্রতিযোগী হিসেবে। ফুটবল ক্যারিয়ার শেষে পোকারই তার নতুন পেশা হবে কি না, তা ভবিষ্যৎ বলবে; তবে আপাতত সবুজ টেবিলেই খুঁজে নিচ্ছেন নিজের আরেক রাজত্ব।