বিশ্বকাপের অংশীদারিত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা থেকে শেষ পর্যন্ত সরে এসেছে ফিফা। ব্যাপক সমালোচনা ও সদস্য সংস্থাগুলোর তীব্র বিরোধিতার মুখে পরিকল্পনাটি বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।
ফিফার পরিকল্পনা ছিল, বিশ্বকাপসহ বিভিন্ন টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি নতুন প্রতিষ্ঠান গঠন করে তার প্রায় ২০ শতাংশ অংশীদারিত্ব বিক্রি করা। এর মাধ্যমে প্রায় ৪.২ বিলিয়ন ডলার তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্য ছিল সংস্থাটির।
তবে প্রস্তাবটি প্রকাশের পরই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় উয়েফা। তারা অভিযোগ তোলে, ফিফা ফুটবলের ‘আত্মা বিক্রি’ করছে। শুধু তাই নয়, প্রস্তাব প্রত্যাহার না করলে ফিফার সব প্রতিযোগিতা বর্জনেরও হুঁশিয়ারি দেয় ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। কনক্যাকাফ ও এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনও এর বিরোধিতা করে। এদিকে পরিকল্পনার প্রতিবাদে পদত্যাগ করেন ইনফান্তিনোর সিনিয়র উপদেষ্টাও।
প্রথমে ফিফা জানালেও যে তারা আলোচনা চালিয়ে যাবে, শেষ পর্যন্ত অবস্থান বদলান ইনফান্তিনো। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘সকল মতামত মনোযোগ দিয়ে শোনার পর এটা স্পষ্ট হয়েছে যে, এই প্রকল্পটি এমন ধরনের বিভেদ তৈরি করেছে, যা আমাদের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে আর সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আমাদের লক্ষ্য সবসময়ই ফুটবলকে ঐক্যবদ্ধ করা এবং এগিয়ে নেওয়া। তাই এই প্রস্তাব আর এগোবে না।’
ফিফা দাবি করেছিল, এই বিনিয়োগের অর্থ বিশ্বজুড়ে ফুটবল উন্নয়নে ব্যয় করা হবে। এমনকি সদস্য দেশগুলোকে প্রস্তাব সমর্থনের বিনিময়ে অতিরিক্ত অর্থায়নের আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই আহ্বান প্রত্যাশিত সাড়া পায়নি।
উয়েফা, কনক্যাকাফ ও এএফসির সম্মিলিত সদস্যসংখ্যা ফিফার অর্ধেকেরও বেশি হওয়ায় প্রস্তাবটি পাস হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যায়। পাশাপাশি ফিফার ভেতরেও এ নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়।
পরিকল্পনা বাতিলের পর ইনফান্তিনো এখন ঐক্যের বার্তা দিয়েছেন। তার ভাষায়, আগামী দিনগুলোতে সব পক্ষকে একসঙ্গে নিয়ে ফুটবলের উন্নয়ন এবং যেসব দেশে সবচেয়ে বেশি সহায়তা প্রয়োজন, সেখানে কাজ চালিয়ে যাওয়াই হবে ফিফার প্রধান লক্ষ্য।