ক্লাব ফুটবলের পর জাতীয় দলের জার্সিতেও নিজেকে এক ভয়ংকর গোলস্কোরারে পরিণত করেছিলেন আর্লিং হলান্ড। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে আতঙ্ক ছড়ানো এই নরওয়েজিয়ান তারকা টানা ১৪ ম্যাচে করেছিলেন ২৭ গোল। এবারের বিশ্বকাপেও ৭ গোল করে গোল্ডেন বুট জয়ের অন্যতম দাবিদার ছিলেন।
তবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে এসে থেমে গেল হলান্ডের সেই অবিশ্বাস্য গোলযাত্রা। ইংলিশদের বিপক্ষে ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে নরওয়ে, আর দীর্ঘ ৬৩৬ দিন পর জাতীয় দলের জার্সিতে গোলহীন মাঠ ছাড়তে হলো হলান্ডকে।
২০২৪ সালের ১৩ অক্টোবর অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে সর্বশেষ জাতীয় দলের হয়ে গোল করতে পারেননি হলান্ড। এরপর থেকে নরওয়ের হয়ে যতবার মাঠে নেমেছেন, প্রতিবারই অন্তত একটি করে গোল করেছেন তিনি। ২৫ বছর বয়সী ম্যানচেস্টার সিটির এই তারকা ১৪ ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠিয়েছেন ২৭ বার।
কিন্তু ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৫তম ম্যাচে এসে সেই ধারায় ছেদ পড়ল। ম্যাচের শুরু থেকেই হলান্ডকে অনেকটাই নিষ্ক্রিয় করে রাখে ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগ। দলের সবচেয়ে বড় তারকা হয়েও পুরো ম্যাচে নিজের স্বাভাবিক ছন্দে দেখা যায়নি তাকে।
দক্ষিণ ফ্লোরিডার প্রচণ্ড গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ার প্রভাবও পড়েছিল হলান্ডের খেলায়। নরওয়ের আশা তখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি, অতিরিক্ত সময়ের শেষ ১৫ মিনিট বাকি থাকতেই কোচ স্টালে সোলবাক্কেন তাকে মাঠ থেকে তুলে নেন। শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ড ২-১ গোলে জয় নিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয়।
প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে নামা হলান্ডের জন্য এটিই ছিল টুর্নামেন্টের প্রথম গোলহীন ম্যাচ। এর আগে চার ম্যাচে ৭ গোল করেছিলেন তিনি। কিন্তু ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেননি।
ম্যাচ শেষে নিজের পারফরম্যান্স ও কন্ডিশন নিয়ে হলান্ড বলেন, ‘এটি ছিল অবিশ্বাস্য এক যাত্রা। ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের (প্রায় ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) বেশি অনুভূত তাপমাত্রায় খেলা যত এগিয়েছে, ততই শক্তি ফুরিয়ে গেছে।’
হলান্ডকে তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে নরওয়ের কোচ স্টালে সোলবাক্কেন বলেন, ‘তাকে তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত কঠিন ছিল না। সে পুরোপুরি ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল। হয়তো আরও ১০ মিনিট আগেই তাকে তুলে নেওয়া উচিত ছিল। দ্বিতীয়ার্ধে তার পায়েও আঘাত লাগে। সেই চোট আর ক্লান্তি মিলিয়েই পরিস্থিতি কঠিন হয়ে ওঠে। তবে সে নিজের সর্বোচ্চটা দিয়েছে।’
বিশ্বকাপে এবার ইতিহাস গড়েছিল নরওয়ে। শেষ ষোলোতে ব্রাজিলকে বিদায় করে তারা নিজেদের বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ সাফল্য পেয়েছে। বিদায়ের পরও তাই হতাশ নন হলান্ড। তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে আমার মনে হয় এই বিশ্বকাপ আমার জীবনই বদলে দিয়েছে। আমার মনে হয়, আমরা নরওয়েকে বিশ্ব ফুটবলের মানচিত্রে তুলে ধরতে পেরেছি।’
ইংল্যান্ডের পরিকল্পনার মূল লক্ষ্যই ছিল হলান্ডকে থামানো। ম্যানচেস্টার সিটিতে তার সতীর্থ এবং ক্লাব পর্যায়ে তার বিপক্ষে খেলা ফুটবলারদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইংলিশরা ঠিক করেছিল, হলান্ডকে যেন বল পাওয়ার সুযোগই কম দেওয়া হয়। সেই পরিকল্পনায় সফলও হয়েছে তারা।
পুরো ম্যাচে হলান্ড মাত্র দুটি শট নিতে পেরেছেন, যার একটি ছিল লক্ষ্যে। প্রথমার্ধের পর ইংল্যান্ডের রক্ষণ তাকে প্রায় পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখে। ম্যাচের শেষ পর্যন্ত গোলমেশিনকে আটকে রেখে নরওয়ের স্বপ্ন শেষ করে দেয় ইংল্যান্ড।