ভারতের পশ্চিমবঙ্গে এক দরিদ্র গৃহবধূর ব্যাংক হিসাবে হঠাৎ প্রায় ৯৮৩ কোটি টাকা দেখানোর ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরে বিষয়টি ব্যাংকের প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা সার্ভারজনিত সমস্যার কারণে হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাটি তদন্ত করছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ।
ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার লালগোলা থানার বিলবোড়াকোপরা গ্রাম পঞ্চায়েতের কালিকাপুর গ্রামের বাসিন্দা সেরিফা খাতুনের সঙ্গে ঘটে।
জানা যায়, সেরিফা খাতুনের স্বামী ও পরিবারের কয়েকজন সদস্য তামিলনাড়ুতে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। সম্প্রতি তাঁর দেবর সেন্ট্রাল ব্যাংক অব ইন্ডিয়ায় থাকা সেরিফার হিসাবে ৩ হাজার রুপি পাঠান। সেই টাকা তুলতে গিয়ে ব্যাংকের হিসাবে তিনি দেখতে পান, সেখানে জমা রয়েছে প্রায় ৯৮৩ কোটি ২৩ লাখ ৩৯ হাজার ৭৬৪ টাকা।
হঠাৎ বিপুল অঙ্কের অর্থ দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন সেরিফা খাতুন। তিনি বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জানান এবং লালগোলা থানায়ও অবহিত করেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ব্যাংকের প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা সার্ভার সমস্যার কারণে ভুল ব্যালেন্স প্রদর্শিত হয়েছে। কীভাবে এ ঘটনা ঘটল, তা তদন্ত করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এদিকে একই দিনে পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ার জেলার ফালাকাটা ব্লকের উত্তর ধুলাগাঁও গ্রামেও প্রায় একই ধরনের আরেকটি ঘটনা ঘটে।
সেখানে স্বপ্না বর্মন নামে এক নারী সরকারি অন্নপূর্ণা যোজনা প্রকল্পের অর্থ জমা হয়েছে কি না, তা জানতে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের শাখায় যান। ব্যাংক বিবরণী (স্টেটমেন্ট) সংগ্রহ করার পর তিনি দেখেন, তাঁর হিসাবে প্রায় ৭৪০ কোটি রুপি জমা রয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বপ্না বর্মনের সঙ্গে কথা বলে এবং পুনরায় ব্যাংকে ব্যালেন্স যাচাই করার পরামর্শ দেয়। দ্বিতীয়বার হিসাব পরীক্ষা করে দেখা যায়, তাঁর অ্যাকাউন্টে ৭৪০ কোটি রুপি নয়, আগের মতোই মাত্র ২০২ রুপি রয়েছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রথমবার প্রদর্শিত বিপুল অঙ্কের অর্থ ছিল সম্পূর্ণ প্রযুক্তিগত ত্রুটির ফল।
একই দিনে পশ্চিমবঙ্গের দুটি পৃথক জেলায় এমন ঘটনার পর ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা ও সার্ভার ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বিষয়গুলোর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে।