কিলিয়ান এমবাপ্পের পেনাল্টি মিস, তারপর দুর্দান্ত গোলে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেওয়া, ওসমান দেম্বেলের নিখুঁত ফিনিশিং আর ইয়াসিন বোনোর একের পর এক দুর্দান্ত সেভ, সব মিলিয়ে নাটকীয়তায় ভরা এক ম্যাচ শেষে মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ফ্রান্স।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণের তীব্রতা দেখায় ফ্রান্স। প্রথম পাঁচ মিনিটেই দুটি ভালো সুযোগ তৈরি করে তারা। তবে মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বোনো দুর্দান্ত দক্ষতায় দলকে রক্ষা করেন। এরপরও বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল ফরাসিরাই। অন্যদিকে পুরো ম্যাচেই গোলের তেমন কোনো বড় সুযোগ তৈরি করতে পারেনি মরক্কো।
২৬ মিনিটে কাউন্টার-এটাক থেকে বক্সে ঢুকে পড়েন কিলিয়ান এমবাপ্পে। তাকে ফাউল করলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। কিন্তু স্পট-কিক থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন ফরাসি তারকা।
এমবাপ্পের দূর্বল শট সহজেই ঠেকিয়ে দেন বোনো। পরে ৩৬ মিনিটে দেজিয়ে দুয়ের শটও দারুণভাবে রুখে দেন এই মরক্কান গোলরক্ষক। প্রথমার্ধের শেষ দিকে লুকাস দিনিয়ের জোরালো শট ক্রসবারে লেগে ফিরে এলে গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে যায় দুই দল।
দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণের ধার বজায় রাখে ফ্রান্স। ম্যাচের ৬০তম মিনিটে দুর্দান্ত এক শটে জাল খুঁজে নেন এমবাপ্পে। এবারের বিশ্বকাপে এটি তার অষ্টম গোল। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে ২০ ম্যাচ খেলে ২০ গোল করেন তিনি। ম্যাচের ৬৬ মিনিটে এমবাপ্পের এসিস্টে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ওসমান দেম্বেলে।
কিন্তু ম্যাচের ৭৭ মিনিটে হঠাৎ করেই চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয় কিলিয়ান এমবাপ্পেকে। মাঠ থেকে তার এই বিদায় ফরাসি শিবিরে কিছুটা উদ্বেগের জন্ম দেয়। তবে ম্যাচ শেষে এমবাপ্পে নিজেই জানিয়েছেন, চোট নিয়ে ভয়ের কিছু নেই এবং তিনি ভালো আছেন। নিজের চোটের পরিস্থিতি নিয়ে এমবাপ্পে বলেন, ‘আমার গোড়ালিতে একটু আঘাত লেগেছিল, তবে আমি ঠিক আছি।’
শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলের জয় নিয়ে টানা আরেকটি বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে ফ্রান্স। এখন ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে সেমিফাইনালে স্পেন ও বেলজিয়ামের মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ী দলের মুখোমুখি হবে ফরাসিরা।