চোটের অন্ধকার পথ পেরিয়ে অবশেষে ব্রাজিল শিবিরে ফিরছে স্বস্তির আলো। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচেই মাঠে ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে দলের সবচেয়ে বড় তারকা নেইমারের। কিন্তু সেই স্বস্তির মুহূর্ত বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না সেলেসাও ড্রেসিংরুমে। হ্যামস্ট্রিং চোটে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ থেকে ছিটকে গেছেন দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আক্রমণভাগের খেলোয়াড় রাফিনিয়া। শুধু তাই নয়, তার পুরো বিশ্বকাপ ভবিষ্যৎ নিয়েও তৈরি হয়েছে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা।
হাইতির বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ের ম্যাচে ডান পায়ের মাংসপেশিতে ব্যথা অনুভব করেন বার্সেলোনার এই উইঙ্গার। এরপর মাত্র ৪০ মিনিটেই মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। সেই থেকেই তার চোটের অবস্থা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
পরবর্তীতে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ) নিশ্চিত করে, রাফিনিয়ার ডান উরুর পেছনের অংশে হ্যামস্ট্রিং চোট ধরা পড়েছে। এই কারণে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তাকে আর পাওয়া যাবে না। ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম ‘ও গ্লোবো’ সিবিএফের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, বুধবার দিবাগত রাত ৪টায় স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তিনি খেলতে পারছেন না।
তবে এখনই তাকে পুরো বিশ্বকাপ স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই সিবিএফের। বরং চিকিৎসা দল আশা করছে, টুর্নামেন্ট চলাকালেই তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ব্রাজিল যদি নকআউট পর্বে পৌঁছাতে পারে, তাহলে শেষ ষোলোর ম্যাচেই রাফিনিয়াকে মাঠে ফেরানোর লক্ষ্য নেওয়া হচ্ছে।
সিবিএফ তাদের বিবৃতিতে জানায়, ‘শনিবারের পরীক্ষায় রাফিনিয়ার ডান উরুর পেছনের অংশে পেশিতে চোট ধরা পড়েছে। সে এখন জাতীয় দলের চিকিৎসক দলের তত্ত্বাবধানে নিবিড় চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে যাবে। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো, যত দ্রুত সম্ভব তাকে সুস্থ করে আবার মাঠে ফিরিয়ে আনা।’
ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, বিশ্বকাপ স্কোয়াড চূড়ান্ত হয়ে গেলে চোটের কারণে নতুন খেলোয়াড় নেওয়ার সুযোগ নেই। তাই রাফিনিয়াকে রেখেই তাকে নকআউট পর্বের জন্য প্রস্তুত করার পরিকল্পনায় এগোচ্ছে ব্রাজিল শিবির।