২০১৬ সালে মিলানে রিয়াল মাদ্রিদ-আতলেতিকো মাদ্রিদের ফাইনালের পর আবারও টাইব্রেকার দেখল চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনাল। বুদাপেস্টের পুসকাস অ্যারেনায় পিএসজি-আর্সেনালের এই স্নায়ু পরীক্ষায় শেষ পর্যন্ত জিতেছে ফরাসি ক্লাবটি। আর্সেনালকে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতল তারা।
টাইব্রেকারের শেষ শটে পিএসজির লুকাস বেরালদো জাল খুঁজে পেলেও আর্সেনালের গ্যাব্রিয়েল মেরে দেন বারের ওপর দিয়ে। তাতেই রিয়াল মাদ্রিদের পাশে নাম লেখাল প্যারিসের দলটি। দ্বিতীয় দল হিসেবে চ্যাম্পিয়নস লিগ ধরে রাখার কীর্তি গড়ল তারা।
তবে শিরোপা ধরে রাখতে বেশ ঘামই ঝরাতে হয়েছে পিএসজিকে। ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটে মারকিনিওসের ক্লিয়ারেন্স লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ডের গায়ে লেগে কাই হাভার্টজের সামনে চলে আসে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে জার্মান ফরোয়ার্ড গোল করে দলকে এগিয়ে দেন আর্সেনালকে। পিএসজি গোলকিপার সাফোনভ তার মাথার ওপর দিয়ে বুলেট গতিতে যাওয়া বলটি ধরার সুযোগই পাননি।
শুরুতে গোল হজম করলেও আড়ষ্ট হয়ে যায়নি পিএসজি, বরং গোলের পর আর্সেনাল অনেকটা নিচে নেমে রক্ষণ সামলানোয় মনোযোগ দিলে আক্রমণের ধার বাড়ান উসমান ডেম্বেলে, ফ্যাবিয়ান রুইজ, দিজিয়ের দুয়েরা। যদিও গোলের প্রবল সম্ভাবনা জাগাতে পারেননি, দূরপাল্লার শট লক্ষ্যভ্রষ্টই থেকে গেছে। প্রথমার্ধের বিরতির আগে হাভার্টজ আর্সেনালকে দ্বিতীয় গোলও এনে দিচ্ছিলেন প্রায়, সেটি হয়নি মারকিনিওসের দৃঢ়তায়।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে আর্সেনালের লক্ষ্য ছিল সময় নষ্ট করার। বিরতি শেষে ইংলিশ ক্লাবটি মাঠে নামে পিএসজির দুই মিনিট পর। খেলা শুরু হওয়ার পর সময় নষ্ট করার কারণে হলুদ কার্ডও দেখেন ক্রিস্টিয়ান মস্কেরা। ৬৫ মিনিটে স্প্যানিশ এই রাইটব্যাকই সুযোগ করে দেন পিএসজিকে ম্যাচে ফেরার। বল নিয়ে বক্সে ঢোকা কাভারাসখেলিয়াকে মস্কেরা ফাউল করলে পেনাল্টি পায় পিএসজি। সুযোগ কাজে লাগিয়ে স্কোরলাইনে সমতা আনতে ভুল করেননি ওসমান ডেম্বেলে।
এরপর ম্যাচে পিএসজির নিয়ন্ত্রণ শুধু বেড়েছেই। কাভারাসখেলিয়ার একটি শট পোস্টে লাগে, বারকোলা দুটি সহজ সুযোগ নষ্টও করেন। তবে কোনো দলই গোল করতে না পারায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। এই আধা ঘণ্টার খেলায় অবশ্য আর্সেনালও সম্ভাবনা তৈরি করেছিল। টিম্বার ও গাইকোকেরেস সেই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ফল গড়ায় টাইব্রেকারে।
আর্সেনালের দ্বিতীয় শট নিতে যাওয়া এজের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ার পরই পিএসজির নুনো মেন্ডেসের শট ঠেকিয়ে দেন ডেভিড রায়া। চার শট শেষে তাই টাইব্রেকার ফলও থাকে সমতায়। তবে শেষ শটে আর সমতা রাখতে পারেনি আর্সেনাল। ব্রাজিলিয়ান সেন্টারব্যাক গ্যাব্রিয়েলের শট বারের ওপর দিয়ে চলে গেলে টানা দ্বিতীয় বারের মত ইউরোপ জয় নিশ্চিত করে পিএসজি।
চ্যাম্পিয়নস লিগে এত দিন শুধু রিয়াল মাদ্রিদেরই টানা দুটি শিরোপা (টানা তিনটি) জেতার কীর্তি ছিল। ২০২৫ সালে প্রথম শিরোপা জেতা পিএসজি এবার নাম লেখাল রিয়ালের পাশে।