সিলেট টেস্টের শেষ দিন যেন এক অদ্ভুত রোমাঞ্চের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে। ম্যাচের ভাগ্য এখনো ঝুলে আছে দুই দলের মাঝখানে, আর সেই কারণেই আজকের দিনটা হতে পারে স্মরণীয় এক ক্রিকেট নাটকের মঞ্চ। চার সম্ভাব্য ফলাফলের মধ্যে ড্রয়ের সম্ভাবনাই সবচেয়ে ক্ষীণ। বাংলাদেশের জয়, পাকিস্তানের জয় কিংবা টাই; সবকিছুর দরজাই এখনও খোলা।
চতুর্থ ইনিংসে পাকিস্তানের সামনে লক্ষ্য ৪৩৭ রান। কঠিন সেই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইতোমধ্যেই ৭ উইকেট হারিয়ে ৩১৬ রান তুলেছে সফরকারীরা। জয়ের জন্য তাদের প্রয়োজন আরও ১২১ রান, হাতে আছে মাত্র ৩ উইকেট।
তবুও পাকিস্তানকে এখনই বাদ দেওয়া যাচ্ছে না। কারণ ক্রিজে এখনো আছেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। ৭৫ রান নিয়ে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। তার সঙ্গে আছেন সাজিদ খান, যিনি প্রথম ইনিংসে ৪টি ছক্কায় খেলেছিলেন ৩৮ রানের কার্যকর ইনিংস। এই জুটি যদি আরেকটি বড় প্রতিরোধ গড়ে ফেলতে পারে, তাহলে ম্যাচের গল্প অন্য দিকেও মোড় নিতে পারে।
আর সেটি হলে পাকিস্তান শুধু ম্যাচই জিতবে না, গড়ে ফেলবে নতুন বিশ্বরেকর্ডও। ২০০৩ সালে অ্যান্টিগা রিক্রিয়েশন গ্রাউন্ডে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪১৮ রান তাড়া করে জিতেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে সেটিই টেস্ট ইতিহাসের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড হয়ে আছে। আজ পাকিস্তান ৪৩৭ রান তাড়া করে জিতে গেলে সেই রেকর্ড নতুন করে লিখতে হবে।
অন্যদিকে বাংলাদেশের সামনেও অপেক্ষা করছে ইতিহাস। টেস্ট অভিষেকের পর এখন পর্যন্ত ৮৩টি সিরিজ খেলেছে টাইগাররা। কিন্তু কোনো দলকেই একাধিক ম্যাচের সিরিজে টানা দুবার হোয়াইটওয়াশ করতে পারেনি তারা। আজ পাকিস্তানকে হারাতে পারলে সেই অপূর্ণতাও ঘুচে যাবে বাংলাদেশের।
সবমিলিয়ে সিলেট টেস্টের শেষ দিনটা এখন শুধুই ক্রিকেট নয়, ইতিহাসেরও লড়াই। একদিকে বিশ্বরেকর্ড গড়ার হাতছানি, অন্যদিকে বাংলাদেশের নতুন এক মাইলফলকের সম্ভাবনা। শেষ পর্যন্ত কোন গল্পটা সত্যি হবে, সেটার উত্তর মিলবে আজ বিকেলের মধ্যেই, হয়তো তারও আগে।