নাটকীয়তায় ভরা ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে যেমন পতন হয়েছে ১১ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসের, তেমনি তামিলনাড়ুতে বড় উত্থান ঘটেছে তামিলাগা ভেট্ট্রি কাজাগামের (টিভিকে)। দক্ষিণী সুপারস্টার চন্দ্রশেখর জোসেফ বিজয়, অর্থাৎ থালাপতি বিজয়ের রাজনীতির অভিষেককে অনেকে তুলনা করছেন একেবারে ব্লকবাস্টার সিনেমার গল্পের সঙ্গে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে চেন্নাই সুপার কিংসের ‘ক্যাপ্টেন কুল’ এমএস ধোনির কৌশলগত ছাপ।
নির্বাচনের পরপরই তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক মানচিত্রে যেন ছড়িয়ে পড়েছে আইপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজি চেন্নাই সুপার কিংসের ‘ইয়েলো ওয়েভ’। সমর্থকদের একাংশ বলছেন, টিভিকের প্রচার কৌশলে এমন কিছু ছন্দ ছিল যা সরাসরি ক্রিকেট স্টেডিয়ামের পরিবেশের কথা মনে করিয়ে দেয়।
গত বছর যখন রাজনৈতিক কৌশলবিদ প্রশান্ত কিশোর টিভিকে’র সঙ্গে যুক্ত হন, তখনই তিনি এক ধরনের ব্যতিক্রমী লক্ষ্য সামনে রাখেন। তিনি বলেছিলেন, ‘আমাকে তামিলনাড়ুতে সবচেয়ে জনপ্রিয় বিহারি হতে হবে। সেটা করতে হলে আমাকে এমএস ধোনির সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে। ধোনি যেমন সিএসকেকে জেতান, তেমনি আমি আপনাদের নেতার অধীনে টিভিকেকে জেতাব।’
এই মন্তব্য শুধু রাজনৈতিক বার্তাই নয়, বরং ধোনিকে কেন্দ্র করে এক ধরনের আবেগ তৈরি করেছিল, যা ধীরে ধীরে ভোটারদের একটি অংশকে প্রভাবিত করে বলে মনে করছেন অনেকে।
সবচেয়ে আলোচিত দিক ছিল টিভিকের নির্বাচনী প্রতীক ‘হুইসেল’। সাধারণ তামিল ভোটারের কাছে এটি সরাসরি সিএসকের বিখ্যাত ‘হুইসেল পডু’ স্লোগানের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়। প্রচারণার প্রতিটি সমাবেশ যেন অনেকটা এমএ চীদাম্বরম স্টেডিয়ামের গ্যালারির আবহ তৈরি করেছিল।
অনেক নতুন ভোটারের কাছে বিষয়টি হয়ে উঠেছিল এক ধরনের আবেগের ধারাবাহিকতা। মাঠে ‘থালা’ ধোনিকে সমর্থন করা থেকে ভোটকেন্দ্রে ‘থালাপতি’ বিজয়কে ভোট দেওয়া পর্যন্ত।
২০২৬ সালের নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে যখন টিভিকে ১০০ আসনের গণ্ডি পেরিয়ে যায়, তখন বিজয়ের রাজনৈতিক ‘ফিনিশিং’ অনেকের কাছে ধোনির বিখ্যাত ম্যাচ শেষ করার স্টাইলের কথাই মনে করিয়ে দেয়।