লা লিগার শিরোপা এখন প্রায় হাতের মুঠোয়। কিন্তু বার্সেলোনা থেমে নেই, বরং সামনে তাকিয়ে বড় স্বপ্ন বুনছে তারা। লক্ষ্য একটাই, বহুদিনের অপেক্ষা ভেঙে আবার ইউরোপসেরা হওয়া। ২০১৫ সালের পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ট্রফি ছুঁতে না পারা কাতালান ক্লাবটি এবার আগেভাগেই স্কোয়াড গুছানোর মিশনে নেমেছে।
কোচ হান্সি ফ্লিক অভিষেক মৌসুমেই দলকে লা লিগা জয়ের পথে রেখেছেন। কিন্তু ইউরোপের মঞ্চে এখনও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আসেনি। দুইবার চেষ্টা করেও চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা জেতাতে না পারায় এবার তিনি এমন একটি দল গড়তে চাইছেন, যেখানে প্রতিটি পজিশনে থাকবে শক্তিশালী বিকল্প; এক কথায় পূর্ণাঙ্গ ‘অস্ত্রভান্ডার’।
তবে পরিকল্পনার পথে সবচেয়ে বড় বাঁধা অর্থনৈতিক সংকট। ক্যাম্প ন্যূ’এর ক্লাবটির হাতে অতিরিক্ত খরচের সুযোগ নেই। ফলে নতুন খেলোয়াড় আনতে হলে আগে বিক্রি করতে হবে বর্তমান স্কোয়াডের কিছু তারকাকে। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘এএস ডায়ারিও’-র তথ্য বলছে, সেই তালিকায় চমক জাগানো কয়েকটি নামও থাকতে পারে।
সবচেয়ে আলোচিত নাম, রোনাল্ড আরাউহো। বার্সার রক্ষণভাগের অন্যতম নেতা এই উরুগুইয়ান ডিফেন্ডারকেও বিক্রির কথা ভাবা হচ্ছে। মাঠে ও মাঠের বাইরে তার গুরুত্ব অনেক, তবুও ক্লাবের আর্থিক বাস্তবতা তাকে ‘বিসর্জন’ দেওয়ার সিদ্ধান্তে ঠেলে দিতে পারে। গত নভেম্বরে বিষণ্নতার কারণে বিরতির পর ফিরেও নিয়মিত একাদশে জায়গা পাননি তিনি, যা ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
আরাউহোর পাশাপাশি জুলস কুন্দে ও আলেহান্দ্রো বালদের নামও ঘুরছে দলবদলের গুঞ্জনে। যদিও কোচ ফ্লিক তাদের ওপর আস্থা রাখেন, তবুও প্রয়োজন হলে বড় সাইনিংয়ের জন্য তাদের ছাড়াও হতে পারে। অর্থ আর কৌশলের সমীকরণই ঠিক করে দেবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।
মিডফিল্ডে লা মাসিয়ার প্রতিভা মার্ক কাসাদোকেও বাজারে তোলা হতে পারে। অনেক ক্লাব ইতোমধ্যেই তাকে পেতে আগ্রহী। এতদিন বার্সায় থাকার ইচ্ছাই তাকে ধরে রেখেছিল, কিন্তু পর্যাপ্ত খেলার সুযোগ না পেলে এবার হয়তো সিদ্ধান্ত বদলাতে পারেন তিনি।
আরেক জটিল পরিস্থিতি রুনি বারদঘজিকে ঘিরে। এই সুইডিশ উইঙ্গারকে ভবিষ্যতের জন্য রাখতে চায় বার্সা, কিন্তু নিয়মিত খেলার সুযোগ পাচ্ছেন না। তাই তাকে বিক্রি করা হলেও চুক্তিতে ‘বাই-ব্যাক’ ক্লজ রাখা হতে পারে, যাতে ভবিষ্যতে আবার ফিরিয়ে আনা যায়।
এদিকে রবার্ট লেভানডস্কির বার্সা অধ্যায় শেষ হওয়ার পথেই। মৌসুম শেষে তার চুক্তির মেয়াদ ফুরোচ্ছে। চার মৌসুমে ১৮৮ ম্যাচে ১৮৮ গোল, সংখ্যাগুলোই বলে দেয় তার অবদান কতটা বিশাল। এই সময়ে জিতেছেন দুটি লা লিগা, একটি কোপা দেল’রে ও তিনটি সুপার কোপা।