বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচে শেষ পর্যন্ত হাসি ফুটেনি বাংলাদেশের ভাগ্যে। নির্ধারিত লড়াইটা পরিণত হলো হতাশার গল্পে, আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ৬ উইকেটের জয়ে সিরিজে সমতায় ফিরল নিউজিল্যান্ড।
৯০ বলে ১০৩ রানের সহজ টার্গেট তাড়া করতে নেমে খুব একটা চাপ নিতে হয়নি কিউইদের। ২০ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে তারা। ফলে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ শেষ হলো ১-১ সমতায়।
সিরিজের শুরুটা ছিল বাংলাদেশের জন্য দারুণ। প্রথম ম্যাচে জয়, দ্বিতীয়টি বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়া; সব মিলিয়ে শেষ ম্যাচ ছিল সিরিজ জয়ের বড় সুযোগ। কিন্তু মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সেই সুযোগ হাতছাড়া করল স্বাগতিকরা।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা আশাব্যঞ্জকই ছিল। ওপেনার সাইফ হাসান আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে প্রথম দুই ওভারে ১৭ রান তুলে দেন। ১০ বলে ১৬ রানের ঝলক দেখালেও ইনিংস বড় করতে পারেননি তিনি। চতুর্থ ওভারের প্রথম বলেই আক্রমণাত্মক খেলতে গিয়ে বিদায় নেন, আর সেখান থেকেই ভাঙনের শুরু।
৩৫ রানের মধ্যে নেই তিন উইকেট। এর পর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি বাংলাদেশ। তানজিদ হাসান তামিম ও পারভেজ হোসাইন ইমন দ্রুত ফিরে গেলে চাপ বাড়তে থাকে। অধিনায়ক লিটন দাস কিছুটা লড়াইয়ের চেষ্টা করলেও ১৭ বলে ২৩ রান করে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান।
মাঝে তাওহীদ হৃদয় চেষ্টা করেছিলেন ইনিংসটা টেনে নেওয়ার। ২৪ বলে ৩৩ রানের ইনিংসে ছিল তিনটি চার ও দুটি ছক্কা। কিন্তু তাকে সঙ্গ দেওয়ার মতো কেউ ছিলেন না। দলের ৮ জন ব্যাটসম্যানই দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি; যা বাংলাদেশের ইনিংসের দুর্বলতাকে একেবারেই স্পষ্ট করে।
বৃষ্টির কারণে ওভার কমে গেলেও পুরো কোটা খেলতে পারেনি বাংলাদেশ। ফলে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ স্কোর গড়ার সুযোগও হাতছাড়া হয়।
ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতে চাপে পড়ে নিউজিল্যান্ড। শরীফুল ইসলামের আগুনে বোলিংয়ে ২৫ রানের মধ্যেই ৩ উইকেট হারিয়ে বসে তারা। ৩ ওভারে মাত্র ১৯ রান দিয়ে ৩ উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে ফেরার আশা জাগান এই পেসার।
এরপর মাহেদী হাসান আরেকটি উইকেট তুলে নিলে ৩৩ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে কিছুটা বিপাকে পড়ে নিউজিল্যান্ড। কিন্তু সেখান থেকেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন বেভন জেকব ও ডেন ফক্সফোর্ট।
দুজন মিলে ৪০ বলে ৭০ রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশের হাত থেকে ম্যাচ ছিনিয়ে নেন। শেষ পর্যন্ত ৩১ বলে ৬১ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন বিভন কনওয়ে, যেখানে ছিল ৫টি চার ও ৩টি ছক্কা।