উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এখন পুরোপুরি নিষ্পত্তির পথে। ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদার এই ট্রফির লড়াইয়ে পৌঁছাতে বাকি শুধু সেমিফাইনাল দেয়াল। সেই বাঁধা পেরোলেই শুরু হবে চূড়ান্ত ট্রফি যুদ্ধ। আর সেই যাত্রার প্রথম ধাপেই মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১টায় জমজমাট এক লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে দুই ইউরোপীয় জায়ান্ট।
ঘরের মাঠ পার্ক দে প্রাঁস-এ প্রথম সেমিফাইনালের প্রথম লেগে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সেন্ট জার্মেইন (পিএসজি) আতিথ্য দেবে শক্তিশালী বায়ার্ন মিউনিখকে। ম্যাচটা শুধু সেমিফাইনাল নয়, বরং ইউরোপিয়ান ফুটবলের দুই পাওয়ারহাউসের আরেকটি অধ্যায়।
নিজেদের মাঠে খেললেও স্বস্তিতে নেই পিএসজি। বরং পরিসংখ্যানই তাদের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ। ২০১৭ সালের পর থেকে বায়ার্নের বিপক্ষে পার্ক দে প্রাঁসে পাঁচবারের মুখোমুখিতে চারবারই হেরেছে তারা। চলতি আসরেও একই ভেন্যুতে বায়ার্ন ১-২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়েছিল। ফলে এই ম্যাচটা পিএসজির জন্য একদিকে যেমন প্রতিশোধের সুযোগ, অন্যদিকে ঘরের মাঠের ‘দুর্ভাগ্যের গল্প’ বদলানোর মিশনও।
দুই দলের সামগ্রিক ইতিহাসও বায়ার্নের পক্ষেই কথা বলে। ১৯৯৪ সালের পর থেকে ১৭ বার মুখোমুখি হয়েছে এই দুই ক্লাব। এর মধ্যে বায়ার্ন জিতেছে ১০ ম্যাচে, পিএসজি ৭টিতে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যবধান অনেকটাই কমে এসেছে, আর প্রতিটি ম্যাচই হয়ে উঠেছে টানটান উত্তেজনার।
লুইস এনরিকের দল এই মৌসুমে আবারও ইউরোপে নিজেদের প্রমাণ করতে চায়। লিগ ওয়ানে শিরোপা দৌড়ে এগিয়ে থাকলেও টানা ম্যাচের চাপ, ইনজুরি এবং স্কোয়াড রোটেশনের চ্যালেঞ্জ সামলাতে হচ্ছে তাদের। তবুও এনরিকে আত্মবিশ্বাসী। তিনি বলেছেন, ‘সেমিফাইনালে ওঠাটা আনন্দের এবং আমরা এর যোগ্য। এই পর্যায়ে আসতে হলে উচ্চাকাঙ্ক্ষী হতে হয় এবং আমার মনে হয় আমাদের তা আছে। আমরা আরও সামনে এগিয়ে যেতে চাই।’
অন্যদিকে বায়ার্ন মিউনিখ এই ম্যাচে আসছে তুলনামূলক বেশি স্বস্তি নিয়ে। বুন্দেসলিগাতে তারা আগেই শিরোপা নিশ্চিত করেছে। ঘরোয়া কাপ ডিএফবি-পোকালেও ফাইনালে পৌঁছে গেছে। ফলে গেম লোড কম থাকায় শারীরিকভাবে তারা অনেকটাই ফ্রেশ।
তবে বায়ার্ন শিবিরেও বড় ধাক্কা আছে। কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানি নিষেধাজ্ঞার কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ডাগআউটে থাকতে পারবেন না। তার জায়গায় দায়িত্ব সামলাবেন সহকারী কোচ অ্যারন ড্যাঙ্কস। কোম্পানি অবশ্য দল নিয়ে আত্মবিশ্বাসী। তার ভাষায়, দল এখন বড় ম্যাচের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।
পিএসজির জন্য আবার আছে মিশ্র খবর। ইনজুরি কাটিয়ে দলে ফিরেছেন ফ্যাবিয়ান রুইজ, যা মাঝমাঠে বাড়তি শক্তি যোগ করবে। অন্যদিকে ভিতিনহার ফিটনেস নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা থাকলেও তিনি অনুশীলনে ফিরেছেন, যা পিএসজি শিবিরে স্বস্তি ফিরিয়েছে।
এই সেমিফাইনালে পিএসজির লক্ষ্য একটাই, ঘরের মাঠে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় লেগের জন্য সুবিধাজনক অবস্থান তৈরি করা। আর বায়ার্ন চাইবে অ্যাওয়ে ম্যাচে গোল তুলে নিয়ে চাপ তৈরি করতে।
সবমিলিয়ে ম্যাচটা শুধু দুই দলের লড়াই নয়, এটি ইউরোপের দুই ভিন্ন ফুটবল দর্শনের সংঘাতও। একদিকে পিএসজির আক্রমণাত্মক ও টেকনিক্যাল ফুটবল, অন্যদিকে বায়ার্নের সংগঠিত ও কার্যকর স্টাইল। যা ম্যাচটাকে করে তুলছে আরও অনিশ্চিত, আরও উত্তেজনাপূর্ণ।