দীর্ঘদিনের অপেক্ষা, হতাশা আর খালি গ্যালারির নিঃশব্দতা! সবকিছুর পর অবশেষে একটু স্বস্তির খবর পাচ্ছেন পাকিস্তানের ক্রিকেটপ্রেমীরা। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে দর্শকশূন্য মাঠে খেলা হলেও, শেষটা আর নিস্তব্ধ থাকছে না। পিএসএলের ফাইনাল ম্যাচে ফিরছে দর্শকদের গর্জন।
দেশজুড়ে জ্বালানি সংকটের কারণে এবারের আসরটা ছিল একেবারেই ব্যতিক্রম। গ্যালারি ছিল ফাঁকা, উচ্ছ্বাস ছিল সীমাবদ্ধ টেলিভিশনের পর্দায়। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে বদলে গেল চিত্রটা। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিশ্চিত করেন, ফাইনালে দর্শক প্রবেশের অনুমতি মিলেছে।
তিনি জানান, ‘ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের অনুরোধ এবং সমর্থকদের আগ্রহের কথা বিবেচনা করে আমি প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের কাছে ফাইনালে দর্শক প্রবেশের অনুমতি চাই।’ এরপর প্রধানমন্ত্রীও ইতিবাচক সাড়া দেন। দেশের মিতব্যয়ী নীতি থাকা সত্ত্বেও ক্রিকেটের গুরুত্ব ও দর্শকদের আবেগের কথা মাথায় রেখে ৩ মে অনুষ্ঠিতব্য ফাইনালে স্টেডিয়ামে দর্শক প্রবেশের অনুমোদন দেন।
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি থেকে তৈরি হওয়া বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাব পাকিস্তানে বেশ জোরালোভাবেই পড়েছে। বিদ্যুৎ ব্যবহার ও যাতায়াতে কড়াকড়ি আরোপের পাশাপাশি পিএসএলের ভেন্যুও কমিয়ে আনা হয়। ছয় শহরের বদলে করাচি ও লাহোরে সীমাবদ্ধ রাখা হয় পুরো আয়োজন। আর দর্শকদের জন্য ছিল পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা।
তবে মাঠের ক্রিকেটে উত্তেজনার কোনো ঘাটতি ছিল না। এবারের পিএসএলে ব্যাটিং ঝড় ছিল চোখে পড়ার মতো। ২০০ রানের বেশি লক্ষ্য তাড়া করে জয় এসেছে একাধিক ম্যাচে। ইতোমধ্যে পেশোয়ার জালমি, মুলতান সুলতানস ও ইসলামাবাদ ইউনাইটেড প্লে-অফ নিশ্চিত করেছে। আর শেষ একটি জায়গার জন্য লড়াই করছে লাহোর কালান্দার্স, হায়দরাবাদ কিংস ও করাচি কিংস। রাওয়ালপিন্ডিজ আগেই ছিটকে গেছে।
সবকিছুর শেষ দৃশ্যটা মঞ্চস্থ হবে ৩ মে, লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে। এবার আর ফাঁকা গ্যালারি নয়; উল্লাস, শোরগোল আর আবেগে ভরা এক সমাপ্তির অপেক্ষায় পুরো টুর্নামেন্ট।