সীমাবদ্ধতা জয় করে ই-ফুটবল বিশ্বে বাংলাদেশের সাফল্য এখন শুধু একটা অর্জন না, এটা নতুন এক বার্তা। ফিফা ই-নেশন্স লিগ ২০২৬-এ এশিয়া (পূর্ব) ও ওশেনিয়া অঞ্চলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছে লাল-সবুজের দল। ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ভার্চুয়াল ফুটবলের এই মঞ্চে বাংলাদেশের নাম এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
জনপ্রিয় ফুটবল ভিডিও গেম ‘ই-ফুটবল’-এর লড়াইয়ে প্লেস্টেশন ৫ কনসোলে বিশ্বজুড়ে প্রতিযোগিতা হয়। ‘গ্রুপ ডি’ থেকে অংশ নিয়ে বাংলাদেশ লড়েছে ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া ও মালদ্বীপের বিপক্ষে। এবং কোনো পরাজয়ের মুখ না দেখেই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে টাইগাররা। নকআউট পর্বে ব্রুনাইয়ের কাছে ‘গোল্ডেন গোল’ ম্যাচে হারলেও পুরো পারফরম্যান্সে বাংলাদেশ ১৪০ কনসিস্টেন্সি পয়েন্ট নিয়ে তালিকার ৭ম স্থানে অবস্থান করছে।
এই সাফল্যের পেছনের গল্পটা কিন্তু সহজ নয়। মহিউদ্দিন মহি, ফাহমিদুল হাসান ফুয়াদ, হামিদুল ইসলাম এবং শেখ রায়হান; এই চারজন খেলোয়াড়ই দেশের হয়ে লড়েছেন। অথচ তারা যেই পরিস্থিতিতে প্রস্তুতি নিয়েছেন, সেটা অনেকের কল্পনার বাইরেও। আধুনিক গেমিং ল্যাব, উন্নত কোচিং বা পর্যাপ্ত সহায়তা তো দূরের কথা, অনেক সময় তাদের নিজের কোনো কনসোল (পিএস৫) পর্যন্ত ছিল না। ধার করা বা সীমিত সুযোগেই তারা বিশ্বমঞ্চে লড়াই করেছেন। প্রতিপক্ষরা যেখানে পূর্ণ সুবিধা নিয়ে এসেছে, সেখানে বাংলাদেশ এসেছে শুধু দক্ষতা আর ইচ্ছাশক্তি নিয়ে।
তবে সামনে আরও বড় লক্ষ্য। ১৪ থেকে ১৬ মে ২০২৬ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে উইক-২ এর লড়াই। নিয়ম অনুযায়ী উইক-১ ও উইক-২ মিলিয়ে সর্বোচ্চ পয়েন্ট পাওয়া তিনটি দল পাবে কন্টিনেন্টাল চ্যাম্পিয়নশিপে খেলার সুযোগ। আর সেখান থেকেই মিলবে সবচেয়ে বড় মঞ্চ, ফিফা ই-ওয়ার্ল্ড কাপ ২০২৬-এ খেলার টিকিট। ফলে বাংলাদেশ এখন দাঁড়িয়ে আছে বিশ্বকাপের খুব কাছাকাছি দরজায়।
তাই খেলোয়াড়দের পাশে এখন বড় সহায়তা দরকার। দেশের ই-ফুটবল অঙ্গনে এখন প্রশ্ন একটাই, এই প্রতিভাদের কি আমরা যথাযথ সুযোগ দিতে পারব? যদি তাদের আধুনিক সরঞ্জাম, প্রশিক্ষণ আর নিয়মিত সহায়তা দেওয়া যায়; তাহলে এই চারজন শুধু এশিয়া নয়, বিশ্বমঞ্চেও বড় চমক দিতে পারে। এমন বিশ্বাস এখন ভক্তদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে।