শুরুটা ছিল টানটান উত্তেজনায় ভরা। ভাইটালিটি স্টেডিয়ামে যেন এক ইঞ্চিও জমি ছাড় দিতে রাজি ছিল না কেউ। শুরু থেকেই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড আর বোর্নমাউথ লড়েছে সমানতালে। আক্রমণ, পাল্টা আক্রমণ, সুযোগ আর প্রতিরোধে ভরপুর এক লড়াই। প্রথম এক ঘন্টা পর্যন্ত অতিথি ইউনাইটেডকে আটকে রাখে স্বাগতিকরা, যেন ম্যাচটা ধীরে ধীরে জমিয়ে তুলছিল বড় কিছুর অপেক্ষায়।
অবশেষে ৬১ মিনিটে ঘটে সেই অপেক্ষার অবসান। ব্রুনো ফার্নান্দোজ পেনাল্টি থেকে গোল করে এগিয়ে দেন ম্যান ইউনাইটেডকে। মনে হচ্ছিল, ম্যাচের মোড় ঘুরে গেছে। কিন্তু বোর্নমাউথ এত সহজে হার মানার দল নয়। মাত্র ৬ মিনিটের ব্যবধানে রায়ান ক্রিস্তির গোলে আবারও সমতায় ফিরে আসে তারা। স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে তখন নতুন করে উত্তেজনার ঢেউ।
১-১ সমতায় থাকা ম্যাচে ৭১ মিনিটে আবার এগিয়ে যায় ইউনাইটেড। জেমস হিলের আত্মঘাতী গোল যেন তাদের জয়পথ সহজ করে দিচ্ছিল। শেষ ১৯ মিনিট লিড ধরে রাখার পরিকল্পনাও ছিল পরিষ্কার। কিন্তু নাটক তখনও বাকি।
পিছিয়ে পড়ার ঠিক ১০ মিনিট পর ম্যাচে আসে সবচেয়ে বড় টার্নিং পয়েন্ট। হ্যারি মাগুয়েরের এক ভুলে সব হিসাব বদলে যায়। নিজেদের বক্সে ইভানিলসনকে ফেলে দিয়ে লাল কার্ড দেখেন তিনি, সঙ্গে দেন পেনাল্টি। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে জুনিয়র রুপি সফল স্পটকিকে ম্যাচকে ফের ২-২ সমতায় নিয়ে আসেন।
শেষ সময়ে দুই দলই চেষ্টা করেছে জয়ের গোল খুঁজতে, কিন্তু আর কোনো গোল হয়নি। উত্তেজনাপূর্ণ এই লড়াই শেষ হয় ড্র দিয়েই।
এই ড্রয়ে ৩১ ম্যাচে ৫৫ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তিন নম্বরে আছে মাইকেল ক্যারিকের দল। অন্যদিকে সমান ম্যাচে ৪২ পয়েন্ট নিয়ে দশম স্থানে বোর্নমাউথ। শীর্ষে থাকা আর্সেনালের সংগ্রহ ৭০ পয়েন্ট, আর তাদের ঠিক পেছনে থাকা ম্যানচেস্টার সিটি পিছিয়ে আছে ৯ পয়েন্টে—যদিও তাদের একটি ম্যাচ কম খেলা।