চাঁদা না দেওয়ায় সিএনজির গ্লাস ভাঙচুর করেছেন যুবদল নেতা, এরকম দাবি সম্বলিত পোস্টে সয়লাব ফেসবুক। তবে যাচাই-বাছাইয়ের পর উঠে এসেছে ভিন্ন তথ্য।
অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম দ্য ডিসেন্ট যাচাই-বাছাই করে জানিয়েছে, দাবিটি সঠিক নয়। ভাইরাল ভিডিওটি নরসিংদীতে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার, যেখানে একজন যাত্রীকে সিএনজি থেকে মাঝপথে নামিয়ে দিলে ওই যাত্রী ক্ষিপ্ত হয়ে সিএনজির গ্লাস ভাঙচুর করেন।
দ্য ডিসেন্ট জানায়, ভিডিওটির কী-ফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হলে ডেইলি নরসিংদী নিউজ নামে নরসিংদীর একটি স্থানীয় মিডিয়া পেজে উক্ত ঘটনার ছবি যুক্ত করে একটি পোস্ট খুঁজে পাওয়া যায়। ১৬ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৪টা ৩২ মিনিটে করা উক্ত পোস্টটির ক্যাপশন ছিলো ‘ইটাখোলা এক যাত্রী কে সিএনজি থেকে নামিয়ে দিলে, পরে ঐ যাত্রী শিবপুর বাড়িগাও সিএন্ডবি বাসস্ট্যান্ডে এসে সিএনজি ভাঙচুর করে।’
একইদিন বিকাল ৬টা ৩৮ মিনিটের দিকে শিবপুর টিভি নামে আরেকটি স্থানীয় ফেসবুক পেজে ভিডিওটি পোস্ট করে বলা হয়, ‘ইটাখোলা এক যাত্রী কে সিএনজি থেকে নামিয়ে দিলে, পরে ঐ যাত্রী শিবপুর বাড়িগাও সিএন্ডবি বাসস্ট্যান্ডে এসে সিএনজি ভাঙচুর করে।’
এ ছাড়া একইদিন ৪টা ৫৫ মিনিটে শিবপুর প্রতিদিন নামে স্থানীয় আরেকটি ফেসবুক পেজে পোস্ট করা একটি ফটোকার্ডে বলা হয়, ‘ইটাখোলায় এক যাত্রীকে সিএনজি থেকে নামিয়ে দিলে, পরে ঐ যাত্রী শিবপুর বাড়িগাও সিএন্ডবি বাসস্ট্যান্ডে এসে সিএনজি ভাঙচুর করে।’
ঘটনাটি যেখানে ঘটেছে সেখানের জিওলোকেশন শনাক্ত করে দ্য ডিসেন্ট। ঘটনাস্থলের গুগল স্ট্রিট ভিউতে দৃশ্যমান জনপ্রিয় ফার্মেসী নামে একটি দোকানের সাইনবোর্ড থেকে নাম্বার সংগ্রহ করে কথা বলে দোকানটির মালিক মো. মাহবুবুর রহমানের সাথে।
তার কাছে ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যেই জায়গায় সিএনজিটা ভাঙছে, এইটা হইলো রাস্তার পূর্বপাশে। আমাদের বাজারটা হইলো সোনাকুড়া সিএন্ডবি বাজার। ওই ছেলেটার দাবি, ওই সিএনজি ড্রাইভারটাই সমস্যা করছে। ইটাখোলা হাইওয়ে রোড থেকে আমাদের সিএন্ডবিতে আসবে তো কি একটা কথা কাটাকাটি কইরা ভাড়ার বিষয়টা নিয়া আরকি। ওই জায়গায় ভাড়া ২০ টাকার ভাড়া হে ৪০ টাকা দাবি করে। ওই বিষয়টা নিয়া কথা কাটাকাটি কইরা ওরে সিএনজি থেকে নামাইয়া দিছে। তো ওই ছেলেটা এই জায়গায় আইসা সিএনজিটা ভাঙচুর করছে আরকি।’
ঘটনাস্থলের পাশে আরেকটি দোকান মীর পোল্ট্রি ফিডের মালিক মীর আমজাদ হোসাইনের কাছে এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার দোকানের সামনেই সিএনজি স্টেশনের মধ্যেই হইছে ঘটনাটা। ঘটনাটা হইছে, সিএনজিতে উঠাইয়া তারপরে এইখানে আইসা নামাইয়া দিছে। চাঁদার বিষয় না, এটা গাড়ির ভাড়া নিয়া।’
এ ছাড়া আয়ান টেলিকম নামের একটি দোকানের সাইনবোর্ড থেকে ফোন নাম্বার সংগ্রহ করে এই বিষয়ে জানতে চাইলে ওই দোকানদারও একইধরণের তথ্য দেন। রিফাত মিয়া নামে ওই দোকানদার বলেন, ‘গাড়িটা ইটাখোলা থেকে আসছিল। তো এখানে আইসা সিএনজির ড্রাইভারের সাথে একটু কথা কাটাকাটি হইছিল। এক পর্যায়ে গাড়ির গ্লাস ভাঙছে। চাঁদার বিষয় না এটা। মানে কথা কাটাকাটির কারণে ওই গ্লাসটা ভাঙছে আরকি। চাঁদার কোন সমস্যা না এটা।’
এ ছাড়া চাঁদা না দেওয়ায় সিএনজির গ্লাস ভাঙচুর করেছে যুবদল নেতা বলে যে দাবি করা হয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যমে এমন কোনো তথ্যও পাওয়া যায়নি।