সৌদি আরব বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) পবিত্র রমজান মাস শুরু হবে। চাঁদ দেখা যাওয়ার পর মঙ্গলবার দেশটি এ ঘোষণা দিয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারও একই ঘোষণা দিয়েছে। এই ঘোষণার মাধ্যমে বিশ্বের ১.৮ বিলিয়নেরও বেশি মুসলমান সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত প্রতিদিন রোজা রাখা শুরু করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে মঙ্গলবার বিভিন্ন দেশে রমজানের চাঁদ দেখা না যাওয়ায় এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বহু দেশে পবিত্র রমজান মাস শুরু হচ্ছে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) থেকে। সিঙ্গাপুর, ব্রুনেই, মালয়েশিয়া, তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, জাপান ও ওমান—সব দেশই আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, মঙ্গলবার রমজানের চাঁদ দেখা যায়নি এবং তাই ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে রোজা শুরু হবে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত, ইরান, মরক্কো, মৌরিতানিয়াসহ কয়েকটি দেশ শাবানের ২৯তম দিন বুধবার চাঁদ দেখার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে; চাঁদ দেখা সাপেক্ষে সেখানে রমজান শুরু হতে পারে ১৯ অথবা ২০ ফেব্রুয়ারি।
ইসলামি বর্ষপঞ্জির নবম মাস রমজানকে বছরের সবচেয়ে পবিত্র মাস হিসেবে গণ্য করা হয়। কারণ এই মাসেই রমজানের শেষ দশ রাতের এক রাত, লাইলাতুল কদরে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর পবিত্র কোরআন নাজিল হয়েছিল। এ ছাড়া রমজান মাসে রোজা রাখা ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি এবং সুস্থ ও প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানদের জন্য এটি ফরজ হিসেবে বিবেচিত। সাধারণত শিশু, অসুস্থ ব্যক্তি, ভ্রমণকারী এবং গর্ভবতী, দুগ্ধদানকারী বা ঋতুমতী নারীরা রোজা থেকে অব্যাহতি পেয়ে থাকেন।
রমজান শুরুর সময় নির্ধারণের জন্য চাঁদ দেখার প্রথা দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। একইভাবে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার মতো গুরুত্বপূর্ণ ইসলামি উৎসবের তারিখ নির্ধারণেও এই প্রথা ব্যবহৃত হয়। চাঁদ দেখা যাওয়ার ওপর নির্ভর করে রমজান মাস সাধারণত ২৯ অথবা ৩০ দিন স্থায়ী হয়। ২০২৬ সালের ক্ষেত্রে দুবাইয়ের জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, রমজান মাস ২৯ দিনের হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তবে বিষয়টি চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে আনুষ্ঠানিক চাঁদ দেখার ঘোষণার ভিত্তিতে।
রমজান মাসে বহু মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে সরকারি ও বেসরকারি—উভয় খাতেই অফিস সময়সূচি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম প্রায়ই কমিয়ে আনা হয়।