দুর্নীতির অভিযোগ মাথায় নিয়ে দেশ ছেড়ে পালানোর সময় ইউক্রেনের সাবেক জ্বালানিমন্ত্রী জার্মান গালুশ-চেঙ্কোকে আটক করা হয়েছে। দেশটির জাতীয় দুর্নীতি দমন ব্যুরো (নাবু) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগে গত বছর বরখাস্ত করা হয় ওই সাবেক মন্ত্রীকে। ট্রেনে ইউক্রেন ছেড়ে যাওয়ার সময় তাকে আটক করা হয়েছে। তিনি কোথায় যাচ্ছিলেন তা স্পষ্ট নয়।
প্রতিবেদন বলছে, মিদাস দুর্নীতি মামলার অন্যতম অভিযুক্ত এবং সাবেক জ্বালানিমন্ত্রী গেরমান গালুশচেঙ্কোকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত বছরের নভেম্বরে ১০০ মিলিয়ন ডলার আত্মসাতের অভিযোগ ওঠা বেশ কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তার মধ্যে তিনি একজন। বর্তমানে তিনি কারা হেফাজতে আছেন। আইন এবং আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। পরবর্তীতে এ ব্যাপারে আরও বিস্তারিত জানানো হবে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির একজন ঘনিষ্ঠ মন্ত্রী ছিলেন গালুশচেঙ্কো। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তার বিরুদ্ধে ১০ কোটি ডলার অবৈধভাবে উপার্জন ও সেই অর্থ বিদেশে পাচার করার অভিযোগ ওঠে।
গালুশচেঙ্কোর বিরুদ্ধে অভিযোগ— তিনি অর্থের বিনিময়ে নিজের প্রভাব খাটিয়ে দেশের জ্বালানি খাতে ইউক্রেনীয় ব্যবসায়ী তিমরুর মিন্ডিচকে বিনিয়োগের সুযোগ করে দিয়েছিলেন। এছাড়া ইউক্রেনের জাতীয় বিদ্যুৎ উৎপাদক প্রতিষ্ঠান এবং দেশটির সবগুলো পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থা এনার্জোঅ্যাটমের ঠিকাদারদের কাছ থেকে যে কোনো কন্ট্রাক্টের বিনিময়ে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ ঘুষ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার তার বিরুদ্ধে।
দুর্নীতির অভিযোগে গত বছরের নভেম্বরে পদত্যাগ করেন গালুশ-চেঙ্কো। এই কেলেঙ্কারির ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য চাপ বাড়ায়, তবে ২০২২ সালে ইউক্রেনের সংবিধানের বিধানের কারণে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটিতে নির্বাচন স্থগিত রয়েছে।
নাবু এক বিবৃতিতে বলেছে, তাদের গোয়েন্দারা মিদাস মামলার অংশ হিসেবে রাজ্য সীমান্ত অতিক্রম করার সময় সাবেক জ্বালানি মন্ত্রীকে আটক করেছে। এতে স্পষ্টভাবে গালুশ-চেঙ্কো নাম উল্লেখ করা হয়নি, তবে বেশ কয়েকটি বিশিষ্ট ইউক্রেনীয় মিডিয়া সংস্থা তার নাম উল্লেখ করেছে।
দুর্নীতি ইউক্রেনের সরকারি প্রশাসনের একটি বড় সমস্যা। মূলত এই কারণেই এখন পর্যন্ত ইউরোপের দেশগুলোর জোট ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) ইউক্রেনের সদস্যপদ প্রাপ্তির ব্যাপারটি এখনও ঝুলে আছে।