হজ ফ্লাইট উদ্বোধন
এ বছরের প্রথম হজ ফ্লাইট উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাত ১১টা ৫৮ মিনিটে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকভাবে হজ ফ্লাইট উদ্বোধন করেন। পরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-৩০০১ ফ্লাইটটি রাত ১২টা ২০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সৌদি আরবের জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করে। এতে ৪১৮ জন হজযাত্রী রয়েছে।
এর আগে রাত ১০টা ৫০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আশকোনা হজ ক্যাম্পে পৌঁছান। এ সময় তিনি ক্যাম্প পরিদর্শন করেন এবং হজযাত্রীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। প্রধানমন্ত্রী হজযাত্রীদের সার্বিক খোঁজখবর নেন এবং তাদের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। পরে তিনি ক্যাম্পে অবস্থানরত হজযাত্রীদের সঙ্গে মোনাজাতে অংশ নেন। তিনি সেখানে একটি মেডিকেল ক্যাম্পেরও উদ্বোধন করেন।
এরপর রাত ১১টা ১৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবেশ করেন। সেখানে তিনি এ বছরের প্রথম হজ ফ্লাইট বিজি-৩০০১ যাত্রীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের হাতে শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেন। প্রধানমন্ত্রী হজযাত্রীদের সঙ্গে দুই হাত তুলে আল্লাহর দরবারে মোনাজাত করেন এবং দোয়া করেন তারা যাতে নির্বিঘ্নে সৌদি আরবে পৌঁছতে পারেন।
হজ ফ্লাইট উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সরকার গঠন করেছি ফেব্রুয়ারির ১৮ তারিখ। এবার হজের ব্যবস্থাপনা হয়ে গেছে ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম দিকে। সেজন্য আমরা এসে এবার খুব বেশি কিছু করার সুযোগ পাইনি। তারপরও চেষ্টা করেছি যতটুকু করা যায়। এবার একটা জিনিস করতে পেরেছি, সেটা হলো ১২ হাজার টাকার মতো খরচ কমাতে পেরেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আশা করি আগামী বছর যারা হজে যাবেন, তাদের জন্য আরেকটু কমাতে পারব। আমরা চেষ্টা করছি আরও ভালো করার জন্য, যাতে হাজীদের আগামী বছর কষ্ট কম হয়।’
হজযাত্রীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা আল্লাহর ঘরে যাচ্ছেন। দেশের জন্য দোয়া করবেন, যাতে দেশের মানুষ শান্তিতে থাকতে পারে। আমি দোয়া করি আপনারা যেন সুস্বাস্থ্য নিয়ে দেশে ফিরতে পারেন।’
এই সময় ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা, প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়াহ, ধর্ম সচিব মুন্সি আলাউদ্দিন আল আজাদ, বেসামরিক বিমান চলাচল সচিব ফাহমিদা আখতার, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক উপস্থিত ছিলেন।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রথম দিন মোট ১৪টি হজ ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ছয়টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের চারটি ও ফ্লাইনাস এয়ারলাইনস চারটি ফ্লাইট পরিচালনা করবে।
২০২৬ সালে বাংলাদেশ থেকে ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজ পালন করবে। তাদের মধ্যে সরকারি মাধ্যমে চার হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি মাধ্যম, অর্থাৎ হজ এজেন্সির মাধ্যমে ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন হজ পালনের উদ্দেশে সৌদি আরব যাবে।
সৌদি আরবের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী মোট হজযাত্রীর ৫০ শতাংশ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস পরিবহন করবে। বাকি ৫০ শতাংশের মধ্যে সৌদিয়া এয়ারলাইনস ৩৫ শতাংশ ও ফ্লাইনাস ১৫ শতাংশ হজযাত্রী পরিবহন করবে।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে হজ অনুষ্ঠিত হবে। হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ৩০ মে থেকে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে, যা চলবে ১ জুলাই পর্যন্ত।