যুদ্ধাবস্থায় মরদেহ ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। বৃহস্পতিবার (৭ মে) ইসরায়েলের হামলায় লেবাননে নিহত প্রবাসী দিপালী আক্তারের মরদেহ দেশে পৌঁছে। বিমানবন্দরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম দিপালীর মরদেহ গ্রহণ করে এ মন্তব্য করেন।
গত ৮ এপ্রিল বৈরুতের হামরা এলাকায় নিজ কফিলের (মালিক) পরিবারের সঙ্গে অবস্থানকালে ইসরায়েলের বিমান হামলায় দিপালী নিহত হন। একই হামলায় তার কফিল ও ওই পরিবারের একাধিক সদস্যও প্রাণ হারান।
মরদেহ হস্তান্তরকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, ‘নিহত দিপালীর পরিবারের জন্য প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড থেকে সর্বমোট ১৩ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। আমরা জানি কোনো অর্থই দিপালীকে ফিরিয়ে আনতে পারবে না, তবুও শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানো আমাদের কর্তব্য।’
তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত সব বাংলাদেশি ভাই-বোনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের এক নম্বর অগ্রাধিকার এবং আমরা নিরলসভাবে সেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’
মধ্য এশিয়ায় যুদ্ধে এখন পর্যন্ত আটজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন; যাদের মধ্যে দিপালীসহ ছয় জনের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। বাকি দুইজনের মধ্যে একজনের দেহাবশেষ পরিবারের সম্মতিতে সৌদি আরবে দাফন করা হয়েছে ও ইরাকে নিহত একজনের মরদেহ ফ্লাইট জটিলতার কারণে আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।
মরদেহ আনতে বিলম্বের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যুদ্ধাবস্থায় মরদেহ ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক না থাকা এবং বিভিন্ন দেশের সরকারের সাথে কূটনীতিক যোগাযোগ ও নিয়ম-কানুন মেনে ফরমালিটিজ সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় লেগেছে। বিশেষ করে সৌদি আরবের সহায়তা ও যুদ্ধকালীন জটিলতা অতিক্রম করে আমরা দ্রুততম সময়ে মরদেহগুলো আনার চেষ্টা করছি।’
এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব আহমাদুল হক, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (কনস্যুলার ও ওয়েলফেয়ার) দেওয়ান আলী আশরাফ ও ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক মো. আসাদুজ্জামান।